চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের লাখ লাখ মানুষকে  জলোচ্ছ্বাস ও পাহাড়ি ঢল থেকে জনপদ রক্ষার হাতিয়ার স্লুইস গেট। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই গেটগুলোই পরিণত হয়েছে গলার কাঁটায়।


গেটগুলো বন্ধ করে করা হচ্ছে মাছের ঘের। ফলে ঠিক সময়ে গেট খুলে না দেওয়ায় পানি নামতে পারছে না। এর প্রভাবে ভেঙে যাচ্ছে বেড়িবাঁধ। পরে তা রূপ নিয়েছে প্রলয়ঙ্করী বন্যায়। চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া উপজেলা থেকে শুরু করে কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া সর্বত্রই একই চিত্র। খোদ প্রশাসন এই ভয়াবহ জিম্মিদশার কথা স্বীকার করলেও, পেশিশক্তির কাছে হার মানছে বানভাসি মানুষের বেঁচে থাকার আকুতি। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ‘মাছ চাষিদের’ অতি লোভে ডুবেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের লাখ লাখ মানুষ। 


বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘কিছু কিছু স্লুইস গেট বন্ধ করে মাছ চাষ করছে অসাধু ব্যক্তিরা। কিছু স্লুইস গেইটে আবার দেয়াল তুলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। ফলে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা স"ষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে কিছুই স্লুইস গেইটের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়েছে। পানি কমলে দেয়ালগুলোও ভেঙে দেয়া হবে।’ 


চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল) খ. ম. জুলফিকার তারেক বলেন, ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় স্লইস গেট বন্ধ করে মাছ চাষের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এর মধ্যে বাঁশখালীর দুটি পয়েন্ট আমরা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


কর্তৃপক্ষ বলছে, স্লুইচ গেটগুলোর উজানে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টি হলে পানি দ্রুত নদী বা সাগরে নামিয়ে দেওয়ার জন্য স্লুইস গেটগুলোর কপাট সম্পূর্ণ খোলা রাখার কথা। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায় ঠিক এর বিপরীত চিত্র। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া, গণ্ডামারা, শেখেরখীল ইউনিয়ন থেকে শুরু করে সাতকানিয়া উপজেলা এবং কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়ার অধিকাংশ স্লুইস গেট এখন প্রভাবশালী মৎস্য চাষি সিন্ডিকেটের দখলে। তারা স্লুইস গেটের ভিতরের খাল ও কৃষিজমিগুলোকে বিশাল ‘মাছের ঘের’ বা ‘চিংড়ি প্রজেক্ট’-এ পরিণত করেছেন। ঢল বা বন্যার সময় ঘেরের মাছ ও চিংড়ি যাতে স্রোতের টানে সাগর বা নদীতে ভেসে না যায়, সেজন্য তারা স্লুইস গেটের কপাট আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে। অনেক ক্ষেত্রে গেটের মুখে বসানো হয়েছে লোহার নেট বা ঘন জাল। উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এই আটকে থাকা পানি। পানি বের হতে না পারায় বাঁধের ভিতরের অংশে প্রচণ্ড চাপ পড়ছে। দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় মাটির বাঁধ দুর্বল হয়ে ধসে পড়েছে এবং সাগরের লোনা পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে।