খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে হাজার হাজার যানবাহন। ঝোপের ভিতর থেকে উঁকিঝুঁকি মারছে কোনোটির অংশবিশেষ। আবার কোনোটির অবস্থা পানিতে ডুবে মরার মতো। এই অবস্থা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) ট্রাফিক বিভাগের আলমপুরস্থ ‘ড্রাম্পিং ইয়ার্ডের’। থানার ডাম্পিংয়ে রাখা যানবাহনের অবস্থা আরও নাজুক। কোনোটির ব্যাটারি নেই, কোনোটির হেডলাইট খোয়া গেছে। কোনোটির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ গায়েব। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, খোলা আকাশের নিচে যেন সাজিয়ে রাখা হয়েছে যানবাহনের সারি সারি ‘কঙ্কাল’।
এসএমপি সূত্র জানায়, ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে যেসব যানবাহন জব্দ করা হয় সেগুলো নিয়ে রাখা হয় দক্ষিণ সুরমার আলমপুরস্থ ডাম্পিং ইয়ার্ডে খোলার আকাশের নিচে। আর বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে জব্দকৃত যানবাহন উন্মুক্তভাবে রাখা হয় সংশ্লিষ্ট থানা কম্পাউন্ডের ভিতরে। এতে দিনের পর দিন যানবাহনগুলো খোলা আকাশের নিচে থেকে নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া পুলিশ হেফাজতে থাকাবস্থায় চুরি হয়ে যায় গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মূল্যবান যন্ত্রপাতি। সরেজমিনে আলমপুর ডাম্পিং ইয়ার্ডে দেখা যায়, হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা, টমটম, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের গাড়ি খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। পুরো ডাম্পিং ইয়ার্ডে জমে আছে হাঁটুপানি। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে ঝোপঝাড়ের আড়ালে হারিয়ে যেতে বসেছে অনেক যানবাহন। এসএমপির উপকমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় জানান, ট্রাফিকের হাতে আটক গাড়িগুলো ডাম্পিংয়ে নেওয়া হলেও আপডেট কাগজপত্র নিয়ে আসলে ছেড়ে দেওয়া হয়। যেগুলোর কাগজপত্র নেই সেগুলো এবং ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশাগুলো অনেক দিন থেকে পড়ে আছে। শেড না থাকায় বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে যানবাহন রাখতে হয়। এদিকে থানার ভিতর উন্মুক্তভাবে রাখা যানবাহনগুলোর অবস্থা ডাম্পিং ইয়ার্ডের চেয়েও নাজুক। চোরাই পণ্য বা মাদকসহ জব্দকৃত কিংবা দুর্ঘটনার শিকার যানবাহনগুলো মামলার আলামত হিসেবে থানার ভিতর অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে বছরের পর বছর। চলতি মাসে নিলামে একেকটি মোটরসাইকেলের দাম ওঠে ৩-৫ হাজার টাকা। জব্দকৃত যানবাহন নষ্ট হওয়া প্রসঙ্গে এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম জানান, যে পরিমাণ গাড়ি জব্দ আছে সেগুলো রাখার মতো এসএমপির ডাম্পিং ইয়ার্ড নেই। সাময়িকভাবে দুটি স্থানে রাখা হচ্ছে। স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড করা গেলে যানবাহনগুলো ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যেত। এ ছাড়া সিসি ক্যামেরা লাগানো সম্ভব হলে নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো। পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এর পরও কিছু যানবাহনের যন্ত্রাংশ খোয়া যায়- এটা সত্য।