রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, কুড়িল বিশ্বরোড, ধানমন্ডি, ফার্মগেট, আজিমপুরসহ অনেক স্থানে যাত্রীছাউনি দিনের পর দিন প্রায় খালি পড়ে আছে। কোনো কোনো ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে এমন স্থানে, যেখানে যাত্রী ওঠানামার চাপ তুলনামূলক কম। আবার কোথাও বাসস্টপেজ থেকে যাত্রীছাউনির অবস্থান দূরে হওয়ায় মানুষ ছাউনিতে না গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করছেন। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত এসব স্থাপনা কার্যত ব্যবহারহীন হয়ে পড়ছে
রাজধানীর নগরবাসীকে রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে যাত্রীছাউনি। কিন্তু নির্মাণের পর সেগুলোর অনেকটাই এখন অকার্যকর। কোথাও যাত্রী নেই, কোথাও বাস থামে না, আবার কোথাও যাত্রীছাউনি দখল করে চলছে দোকানপাট। ফলে যাত্রীছাউনি থাকলেও সেখানে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করেন না যাত্রীরা। শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সড়কের ওপর দাঁড়িয়েই বাসে উঠতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, কুড়িল বিশ্বরোড, ধানমন্ডি, ফার্মগেট, আজিমপুরসহ অনেক স্থানে যাত্রীছাউনি দিনের পর দিন প্রায় খালি পড়ে আছে। কোনো কোনো ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে এমন স্থানে, যেখানে যাত্রী ওঠানামার চাপ তুলনামূলক কম। আবার কোথাও বাসস্টপেজ থেকে যাত্রীছাউনির অবস্থান দূরে হওয়ায় মানুষ ছাউনিতে না গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করছেন। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত এসব স্থাপনা কার্যত ব্যবহারহীন হয়ে পড়ছে। শুধু অপরিকল্পিত নির্মাণ নয়, গণপরিবহনের অনিয়মও যাত্রীছাউনিগুলোকে অকার্যকর করে তুলছে। নির্দিষ্ট বাসস্টপেজে বাস থামানোর নিয়ম থাকলেও রাজধানীর অনেক রুটে তা মানা হচ্ছে না। যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় চালক ও পরিবহন শ্রমিকরা যেখানে যাত্রী পান, সেখানেই বাস থামিয়ে দেন। কখনো মোড়ের মুখে, কখনো সড়কের মাঝখানে আবার কখনো যাত্রীছাউনি থেকে বেশ কয়েক গজ দূরে দাঁড় করানো হচ্ছে বাস।
ফলে নিরাপদে বাসে ওঠার জন্য নির্মিত যাত্রীছাউনির পরিবর্তে মানুষকে দাঁড়াতে হচ্ছে ব্যস্ত সড়কে। এতে একদিকে যেমন যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যাত্রীরা। অনেক সময় বাসে ওঠার জন্য দৌড়ে গিয়ে সড়কের মাঝখান থেকেই গাড়িতে উঠতে হচ্ছে তাদের।
অন্যদিকে যেসব যাত্রীছাউনি ব্যবহার হচ্ছে না, সেগুলোর অনেক দখল হয়ে যাচ্ছে। কোথাও হকার ও ভাসমান দোকান বসেছে, কোথাও চা-পানের দোকান। কোনো কোনো ছাউনিতে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকছে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় অনেক ছাউনির আসন ভেঙে গেছে, ছাদের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও দেয়ালে পোস্টার ও বিজ্ঞাপন সাঁটিয়ে নষ্ট করা হচ্ছে সৌন্দর্য। নগরবাসীর অভিযোগ, যাত্রীদের সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হলেও যাত্রীছাউনিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে নির্মাণের আগে যথাযথ সমীক্ষা করা হয়নি। কোথায় কতসংখ্যক যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করেন, কোন রুটের বাস সেখানে থামবে এবং পথচারীদের চলাচলের সঙ্গে ছাউনির অবস্থান কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ-এসব বিষয় বিবেচনায় না নিয়েই অনেক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, একটি যাত্রীছাউনি শুধু একটি ছাদ ও বসার জায়গা নয়; এর সঙ্গে বাস রুট, নির্ধারিত স্টপেজ, ফুটপাত, সড়কের প্রস্থ, যাত্রী ওঠানামার চাপ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সরাসরি যুক্ত। তাই নতুন করে যাত্রীছাউনি নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয়তা যাচাই এবং পুরোনোগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন জরুরি। একই সঙ্গে নির্ধারিত স্টপেজে বাস থামানোর নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাত্রীছাউনি নির্মাণের পর দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সংস্কার, দখলমুক্ত রাখা এবং বাস থামার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তদারকি প্রয়োজন। তা না হলে জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো একসময় নিজেই জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নগরবাসীর প্রশ্ন- যেখানে যাত্রী দাঁড়ায় না, সেখানে কোটি টাকা ব্যয়ে যাত্রীছাউনি নির্মাণের প্রয়োজন কী? আর যে যাত্রীছাউনিতে বাসই থামে না, সেটি কার জন্য? জনগণের অর্থে নির্মিত এসব স্থাপনা কবে সত্যিকার অর্থে জনগণের কাজে আসবে-এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা পরিবহন সেক্টরকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। অবৈধ দখল হয়ে যাওয়া যাত্রীছাউনি উদ্ধার করব। চালক ও যাত্রীদের সচেতন করব তারা যেন যাত্রীছাউনিতে গাড়ি স্টপেজ দেন এবং উঠেন।’