২১ জুন পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতসহ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। কখনো কখনো দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত করতে পারে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল।


বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল সন্ধ্যায় সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে গত সাত দিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যায়। আগামী ২১ জুন পর্যন্ত এসব এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতসহ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এমনকি স্থানভেদে ৩৫০ থেকে ৪০০ মিমি. বৃষ্টিপাতও হতে পারে। সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪৪ মিমি. ছাড়ালে তাকে ভারী বৃষ্টিপাত ও ৮৮ মিমি. ছাড়ালে অতিভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে দেশের অধিকাংশ নদনদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগেও মাঝারি ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সকালের তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় দেশের নদনদীর ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের ৮৪টিতে পানির উচ্চতা বেড়েছে। আগামীকাল থেকে পরবর্তী ৯ দিন ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদনদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা তেমন নেই। গতকাল সকালে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ১৪০ মিমি. ও সিলেটে ১০০ মিমি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, আগামী ৯ দিন দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।