আসন্ন গণভোটে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অবস্থান নিরপেক্ষতার পরিপন্থি- সম্প্রতি এমন প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং স্পষ্টীকরণ ব্যাখ্যা দিয়েছে। ব্যাখ্যায় বলা হয়, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট বিবেচনায় এই সমালোচনার কোনো ভিত্তি নেই। সংকটময় সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতা নয়, বরং দায়িত্বহীনতার ইঙ্গিত। প্রেস উইং জানায়, এই সরকার শুধু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নয়; দীর্ঘদিনের অপশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও জনঅনাস্থা কাটিয়ে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাঠামো তৈরির দায়িত্ব নিয়েই গঠিত। গত ১৮ মাসে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে প্রণীত সংস্কার প্যাকেজের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই সরকারের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্যাখ্যায় বলা হয়, গণভোটে সরকারপ্রধানের অবস্থান নেওয়া আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় স্বাভাবিক এবং এতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই থাকে। ভোটাররা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারছেন, বিরোধী পক্ষ প্রচারণা চালাতে পারছে এবং প্রক্রিয়া স্বচ্ছ- এই তিন শর্ত বজায় থাকলেই গণতান্ত্রিক বৈধতা নিশ্চিত হয়।
প্রেস উইং আরও জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনি বা ক্ষমতাকেন্দ্রিক স্বার্থ নেই। জেলা পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমের উদ্দেশ্য সংস্কার বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করা। সার্বিকভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ; শেষ সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই থাকবে। বরং, সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যখন তাঁদের অবস্থান স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন, তখন ভোটারদের সিদ্ধান্ত আরও তথ্যভিত্তিক ও অর্থবহ হয়। ব্যাখ্যায় যুক্তরাজ্যের ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোট, স্কটল্যান্ডের ২০১৪ সালের স্বাধীনতা গণভোট, তুরস্কের ২০১৭ সালের সাংবিধানিক গণভোট, কিরগিজস্তান ও ফ্রান্সের বিভিন্ন গণভোটে সরকারপ্রধানদের ভূমিকার উদাহরণ দেওয়া হয়।