কেমন ছিল বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আমল? রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির চেয়ারে থেকে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে কেমন ‘ভূমিকা’ রেখেছিলেন তিনি? পদত্যাগ করলেও মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে কেন থামছে না নানা বিতর্ক ও আলোচনা-সমালোচনা? বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন থেকে শুরু করে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ পর্যন্ত দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পুরো কার্যকাল ছিল তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও নাটকীয়তায় ঘেরা। এসব কারণে রাজনৈতিক অঙ্গণে অনেক দিন তাকে নিয়ে নানামুখী তির্যক আলোচনা চলবে বলে জানান তারা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে বিতর্ক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে দূরত্বের কারণে সমালোচিত হওয়ার পর শুক্রবার স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাসের মেয়াদে আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি এই তিনটি ভিন্ন সরকারের শপথ পড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন।
সাবেক রাষ্ট্রপতির আমলের মুল্যায়ন করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে তিনি নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সাংবিধানিক কারণে তাকে দরকার ছিলো তাই তাকে ঘিরে তৈরি বিতর্ক অনেকটা ম্লান হয়েছে। অন্যদের যেভাবে অসম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে হয়েছে, সাহাবুদ্দিনের ক্ষেত্রে সেটা হয়নি শুধু রাষ্ট্রপতি পদে থাকার জন্য। আসলে তিনি কম বিতর্কিত ব্যক্তি নন। ফ্যাসিবাদের সময়ও তাকে ঘিরে বিতর্ক ছিলো। তাই বলবো-অপ্রতাশিত হলেও তার বিদায়টা অন্যদের তুলনায় ভালো হয়েছে।
শুরুতে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক, পরে আইনগত জটিলতা, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারিদের তোপের মুখে পড়া, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র বিতর্ক থেকে শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েন নিয়ে বিতর্কেরমুখে পড়েন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। তার এই বিতর্ক গড়ায় বর্তমান সরকারের সংসদ পর্যন্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াত-এনসিপি জোটের তোপেরমুখে পড়েন তিনি। উত্তপ্ত ওই পরিস্থিতির মধ্যে মুখে স্মিত হাসি বজায় রেখে নিজের বক্তব্য শেষ করেন। তার ওই হাসির ভিডিও বেশ কয়েক দিন উত্তাপ ছড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নেটিজেনদের কাছ থেকে আসে নানা ধরনের তীর্যক মন্তব্য ও স্টিকার। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময় নিয়োগ পাওয়া এই রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরে ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সময় পদে থাকবেন কি না, এ নিয়ে অনেকবার প্রশ্ন উঠেছে, নানা রকম আলোচনা হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাসের একটু বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এলো।
২০২৬ এর নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পরও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে থাকবেন কি না সে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে তার বহাল থাকাটাই দৃশ্যমান হয়। সম্প্রতি বিএনপি সরকারের সঙ্গে তার এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারনা। তাই দলটির উচ্চ পর্যায় থেকেই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে বঙ্গভবনের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
কর্মজীবন নিয়ে বিতর্ক : ২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে দল এবং দলীয় আদর্শের প্রতি তার আনুগত্যের প্রশ্ন বড় বিবেচনার বিষয় ছিল বলে দলটির নেতাদের অনেকে বলেছিলেন। তবে দলীয় আনুগত্যের বিপরীতে রাষ্ট্রপতি পদে কতটা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন- তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রশ্ন ও সমালোচনাও তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম ঘোষণার পর আইনগত দিক থেকেও বিতর্ক তৈরি হয়।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের একজন সাবেক কমিশনার ছিলেন। দুদকের কমিশনার হিসেবে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। সেসময় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল যে একজন সাংবিধানিক পদে থেকে লাভজনক পদে যেতে পারেন কি না। এর আগে পেশাজীবনে প্রথমে সাংবাদিকতা শুরু করলেও পরে আইন পেশায় যোগ দেন। এরপর বিচার বিভাগে যোগদান করে দীর্ঘদিন বিচারক হিসাবে কাজ করে ২০০৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এর প্রেক্ষাপট ছিল দুদকেরই আইন। সেই অনুযায়ী দুদকের কোনো কমিশনার অবসর নেওয়ার পর প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে নিয়োগের যোগ্য হবেন না। তখন রাষ্ট্রপতি পদটাই লাভজনক কি না সে প্রশ্ন আর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি রিট হাইকোর্টে খারিজ করে দেওয়া হয়।
শেখ হাসিনার পদত্যাগ বিতর্ক : ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে রাষ্ট্রপতির পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বড় আলোচনার জন্ম দেয়। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন যে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি’। কিন্তু কয়েক মাস পর সংবাদ মাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তার কাছে পদত্যাগপত্রের কোনো দালিলিক প্রমাণ বা অফিসিয়াল কপি নেই। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়। যেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে গঠন হয়েছিল, সেক্ষেত্রে পুরো বিষয়টিই জটিল আকার ধারণ করে।
২০২৪ এর অক্টোবর মাসে রাষ্ট্রপতির সে বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় মিছিল-সমাবেশ করে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগেরও দাবি তোলা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির পদচ্যুতির জন্য আল্টিমেটামও দেওয়া হয়। সামাজিক মাধ্যমেও অন্তর্বর্তী সরকার সমর্থক ও আওয়ামী লীগ বিরোধীরা রাষ্ট্রপতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলেন। এরপর বঙ্গভবন থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ‘মীমাংসিত বিষয়ে নতুন করে কোন বিতর্ক সৃষ্টি না করার জন্য’। সেসময় রাষ্ট্রপতি ইস্যু নিয়ে অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছুটা দূরত্বও তৈরি হতে দেখা যায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক : মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ প্রসঙ্গ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই আলোচনায় ছিল। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর তার মেয়াদের মাঝপথেই পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। সে প্রতিবেদনে বলা হয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারণে তিনি ‘অপমানিত’ বোধ করছেন এবং তিনি বিদায় নিতে আগ্রহী। সেসময় সাক্ষাৎকারের বেশ কিছু দিক নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে তার সম্পর্কের টানাপড়েনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এর মধ্যে ছিল তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস প্রায় সাত মাস তার সঙ্গে দেখা না করা, রাষ্ট্রপতির প্রেস বিভাগ সরিয়ে নেওয়া এবং সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে তার প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা। বিদেশের কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশন থেকে প্রেসিডেন্টের ছবি সরিয়ে দেওয়া নিয়ে ইউনূসকে তিনি লেখার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং তার ‘কণ্ঠরোধ করা হয়েছে’ এমন কথাও আসে। সেখানে পদত্যাগ করার ব্যক্তিগত ইচ্ছা থাকাসত্ত্বেও তিনি পরবর্তী সরকারকেই তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ দেবেন বলে উল্লেখ করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময়ে এসেই পদত্যাগ করলেন।
ভাষণ ঘিরে সংসদে উত্তেজনা : চলতি বছরের ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ ঘিরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্তেজনা তৈরি হয়। তার ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে প্রায় পাঁচ মিনিট বিক্ষোভের পর সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। এর আগে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম দাঁড়িয়ে বলেন, ‘কিলার ইন দা পার্লামেন্ট!’ এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় সব সদস্য নানা বক্তব্য দিয়ে তৈরি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। একপর্যায়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ‘কিলার চুপ্পু, বয়কট চুপ্পু’ বলে স্লোগান দেন। অন্য সংসদ সদস্যরা ‘গেট আউট, গেট আউট’ বলে স্লোগান দেন। এ সময় কিছু সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিরোধী দলের সদস্যরা ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদ আর গণতন্ত্র, একসাথে চলে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শুরু করেন। তখন বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে ‘লজ্জা লজ্জা’ হলে বিদ্রূপ করেন।
আজ বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন : আজ বঙ্গভবন ছাড়ছেন শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করা সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পরিবারের এক সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সূত্রটি জানায়, বঙ্গভবন ছাড়ার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ত্যাগ করে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন মো. সাহাবুদ্দিন। এদিকে গতকাল রাতে বিদায়ি রাষ্ট্রপতিকে বঙ্গভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সংবর্ধনা প্রদান করেন। এর আগে শুক্রবার বিকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগও শনাক্ত হয়েছে। এসব কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয় বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।