নির্ধারিত সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ায় শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন প্রার্থীরা। ২৫ মার্চের পরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের নির্বাচনের ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে ১৫ মার্চ। আইন অনুযায়ী বিজয়ী, পরাজিত ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্যই ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্ন যথাযথভাবে দাখিল না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে দোষী প্রার্থীকে সর্বোচ্চ সাত বছর এবং সর্বনিম্ন দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী কেউ হিসাব না দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য রিটার্নিং অফিসারকে ২৫ মার্চের মধ্যে প্রার্থীদের কারা হিসাব দিয়েছেন এবং কারা দেননি তার তথ্য জমা দিতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। ইসি সূত্র জানায়, এবারের প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ২৫ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয়সীমা ছিল। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর আসনের ভোটার সংখ্যার ওপর নির্ভর করে ব্যয়সীমা। আর এ ব্যয়সীমা লঙ্ঘনে শাস্তি হচ্ছে সাত বছর জেল ও জরিমানা।


জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের নামসহ গেজেট প্রকাশ করে ইসি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার বিধানের মধ্যে বলা আছে, গেজেট প্রকাশ থেকে ৯০ দিনের হিসাব জমা দিতে হবে। এ বিধান উল্লেখ করে এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।


ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব এ এস এম ইকবাল হাসান নির্বাচনে দায়িত্বপালন করা সব রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২-এর ৪৪(গ) অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচিত প্রার্থীদের নামের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলের বিধান রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম, ঠিকানা-সংবলিত গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে। তাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কর্তৃক ব্যয় বিবরণী দাখিল নিশ্চিতকরণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জারিকৃত পরিপত্র-১৮ অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিলকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের স্ব-স্ব নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্নের তথ্য আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে ইসিতে পাঠাতে হবে। এবারের সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ২ হাজার ২০ জনের মতো। রিটার্নিং কর্মকর্তারা তথ্য পাঠালে ২৫ মার্চের পর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কমিশন জানাবে কারা পড়ছেন শাস্তির আওতায়।


গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ৪৪ (খ)-এর দফা ৩ অনুযায়ী, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়, তাকে মনোনয়ন প্রদানকারী রাজনৈতিক দল থেকে তার জন্য করা ব্যয়সহ ভোটার প্রতি ১০ টাকা হারে অথবা মোট ২৫ লাখ টাকার মধ্যে যা সর্বোচ্চ, তার অধিক হবে না। ইসি কর্মকর্তা বলছেন, আইনে নির্ধারিত ব্যয়সীমার ব্যত্যয় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জেল-জরিমানা করা হতে পারে। আরপিও-এর ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ব্যয়সীমার বিধান না মানলে বা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে তা বে-আইনিকার্যের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হতে হবে। এজন্য ন্যূনতম দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।


এ বিষয়ে ইসির সিনিয়ব সচিব আখতার আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আইনে সুস্পষ্ট করণীয় উল্লেখ করা আছে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।