দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের দিকে নজর দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। সে অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প চালু করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য মন্ত্রী-সচিবদের সঙ্গে তিনি দফায় দফায় বৈঠক করছেন। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারও তিনি সরকারি কাজকর্ম করছেন।


গতকালও ফামিলি কার্ড প্রকল্প চালুর কৌশল নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বৈঠক করেছেন। শুধু তা-ই নয় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত একটি বৈঠক করেছেন। অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতরের আগেই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প উদ্বোধন করতে চান প্রধানমন্ত্রী। ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী বাছাইয়ে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিতে সবার প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। 


ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীরা পণ্যের পরিবর্তে নগদ টাকা পাবেন। প্রতি মাসে কমপক্ষে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন প্রতি উপকারভোগী। অবশ্য নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছে পরিবারের কর্ত্রী বা গৃহকর্ত্রী সরাসরি ফ্যামিলি কার্ডের  সুবিধাভোগী হবেন। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড চালু হলেও বাজেটে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর অন্যান্য ভাতাগুলো আগের মতোই বহাল থাকবে এবং নতুন এই সুবিধার কারণে কেউ পুরোনো ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন না।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তত ৫০ লাখ উপকারভোগীকে টার্গেট করে প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে এবং অর্থের সংস্থান হতে পারে কোন খাত থেকে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কেননা বর্তমানে অর্থবছরের মাঝামাঝি সময় চলছে। চলতি এই বাজেট ২০২৫-২৬ সংশোধনও করে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে বাজেটে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হাতে যথেষ্ট অর্থ আছে কিনা বা অন্য কোনো খাত থেকে অর্থের সংস্থান করা যায় কি না, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে নয় দফা অগ্রাধিকারভিত্তিক ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন, তার অন্যতম ছিল ফ্যামিলি কার্ড। নতুন প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন জনসভা ও আলোচনায় এই কার্ডের বিষয়টি তুলে ধরেন। দলীয়ভাবে জানানো হয়েছিল, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে এই কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে এ সুবিধার পরিমাণ বাড়ানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত পণ্যের পরিবর্তে নগদ টাকা দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।


অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ৫০ লাখ পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দিতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার মতো। এই পরিমাণ টাকা সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকেই সংস্থান করা সম্ভব। এদিকে ঈদুল ফিতরের আগেই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের পাইলটিং শুরু করতে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।


এজন্য প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় এই কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গৃহকর্ত্রী হিসেবে নারীদের এর পরোক্ষ উপকারভোগী হিসেবে গণ্য করে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে একটি তালিকা করা হবে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে মুঠোফোন নম্বর। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে এ সুবিধা করা হবে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে বলা হয়েছে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে। এ প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড মূলত বিএনপির একটি নতুন উদ্ভাবন,  যা দেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করবে। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের হাতে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। এ প্রকল্প সফল হলে দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে সরকার।’