ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠান। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ (অতিগুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত ভোট কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে আনা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা বা বডি-ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেছেন, সব ভোটার যাতে ভোট কেন্দ্রে এসে নিরাপদে ভোট দিতে পারে, এটা নিশ্চিত করতে হবে। সেই ভোটার যে-ই হোক না কেন। এবারের নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে প্রার্থীদের জিততে হবে। দুই নম্বরির কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া নির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


গতকাল ভোলা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হলরুমে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট’ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশজুড়ে সমন্বিতভাবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইসি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর। সহিংসতা ও নাশকতার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভোট কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হবে। সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৮৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশিসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হবে। এসব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে। যেখানে সিসি ক্যামেরা বসানো সম্ভব হবে না, সেখানে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কোথাও বিজিবি, কোথাও সেনাবাহিনী কিংবা বিমানবাহিনীর সদস্যদের টহল ও মুভমেন্ট থাকবে। এসব বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন, যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা দুর্ঘটনা না ঘটে। ইসি জানিয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ হাজার ১৭ জন প্রার্থী। ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। সেনাবাহিনীর ১ লাখ, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, র‌্যাবের ৭ হাজার ৭০০ এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য থাকবেন। ভোট কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্রে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভোট কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ২৫ হাজার ৮৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ (অতিগুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ১৬ হাজার ৯৩২টি সাধারণ ভোট কেন্দ্র। অতিগুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের অনেকটিতে এরই মধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎসংযোগহীন ২৯৯টি কেন্দ্রে বিদ্যুৎসংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে।


সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে ভোটারদের জন্য থাকবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার মিলিয়ে মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ভোট কেন্দ্র ও কক্ষের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। নির্বাচন কমিশন সচিব জানান, সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন। পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। সব মিলিয়ে মোট ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জনে।