কাতার এয়ারওয়েজ আগামী ১৩ এবং ১৫ মার্চ বাংলাদেশগামী যাত্রীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করতে যাচ্ছে। আগ্রহী যাত্রীরা সরাসরি কাতার এয়ারওয়েজের ওয়েবসাইট থেকে অথবা ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে কাতারের বাংলাদেশ দূতাবাস। গতকাল দূতাবাস এক বার্তায় এ তথ্য জানায়।
দূতাবাস জানায়, এ দুটি ফ্লাইটের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা। আগ্রহী যাত্রীরা সরাসরি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। তাই দূতাবাসের আগের উল্লেখ করা গুগল ফর্ম পূরণের আর প্রয়োজন নেই। এ ফ্লাইটে কাতারে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ফিরতে পারবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে এখনো চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। তবে এর মধ্যেও কিছুটা সচল হয়েছে উড়োজাহাজ চলাচল। কমে এসেছে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা। গতকাল হযরত শাহজালাল ও শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্য রুটে কিছু ফ্লাইট যাতায়াত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ সংঘাতের কারণে এ পর্যন্ত ৩৯১টি ফ্লাইট বাতিল করেছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকালও ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ) চারটি, গালফ এয়ারের (বাহরাইন) দুটি, কাতার এয়ারওয়েজের চারটি, ইমেরিটাসের চারটি, জাজিরা এয়ারওয়েজের (কুয়েত) চারটি ও ফ্লাই দুবাইয়ের চারটি ফ্লাইট রয়েছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন যেভাবে চলছে, এটা ধারাবাহিক থাকলে ক্রমেই ফ্লাইট বাতিল বাড়তে থাকবে। আর ওই ৩৬৪টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রায় লাখো যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের রিশিডিউল ফ্লাইট কবে হবে তার নিশ্চয়তা নেই। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে কমে আসছে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ, দুবাই, আবুধাবি থেকে চট্টগ্রামের ফ্লাইটগুলো অনেকটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি অ্যারাইভাল ফ্লাইট এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি অ্যারাইভাল ও দুটি ডিপার্চার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ওই দিন সচল ছিল বিভিন্ন এয়ারলাইনসের যাত্রীবাহী মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা সাতটি অ্যারাইভাল ফ্লাইট ও ছয়টি ডিপার্চার ফ্লাইট। এর আগে শনিবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। রবিবার বাতিল হয়েছিল পাঁচটি ফ্লাইট।