বগুড়া-৬ উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ সাধারণ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ১২ ফেব্রুয়ারির মতোই রাখা হবে। আগামী ৯ এপ্রিল এ দুটি আসনের নির্বাচন আরও ভালো হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। গতকাল নির্বাচন কমিশন ভবনে দুটি নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। আর প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় শেরপুর-৩ আসনের ভোট একই দিনে করছে ইসি। গতকাল নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সভায় ইসি সচিব আখতার আহমেদসহ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, র?্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব বলেন, বগুড়া-৬ এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোট থাকছে না। তবে পোস্টাল ব্যালটে ভোট হবে। বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। বগুড়ার ক্ষেত্রে আগে গণভোট নেওয়া হয়েছিল। তবে শেরপুর-৩ আসনে গণভোটের ভোটসংখ্যা নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। এ কারণে সেখানে গণভোটের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের সময় (১২ ফেব্রুয়ারির) যে ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যানের আওতায় কাজ এগোচ্ছে। বাড়তি রিসোর্সেসের মধ্যে পুলিশের বডিওর্ন ক্যামেরা ও সুরক্ষা অ্যাপের সমন্বয়টা বাড়াব। আগে একটা কেন্দ্রে একটি বডিওর্ন ক্যামেরা ছিল, এটা একটু বাড়ানো হবে। রিটার্নিং অফিসার ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, এ দুটি নির্বাচনে আনসার বাহিনী আট দিনের জন্য আর সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ অন্যরা নির্ধারিত সময়সীমা (সাত দিনের জন্য) অনুযায়ী থাকবে। মাঠে নির্বাহী হাকিম, বিচারিক তদন্ত কমিটি রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো কোথাও কোনো ধরনের সমস্যা নেই। ভালো নির্বাচনের পর এ দুটো আসনের নির্বাচন আরও ভালো হোক- সবার এটা প্রত্যাশা। প্রবাসী ও দেশের জন্য পোস্টাল ব্যালট থাকবে। ইসি সচিব জানান, এই নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


তিনি জানান, কেন্দ্রভিত্তিক ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে পর্যালোচনা করা যায়। ফলাফল ব্যবস্থাপনাও আগের মতোই থাকবে। যেহেতু দুটি আসনে কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক কম একটিতে ১৫০টি এবং অন্যটিতে ১২৮টি কেন্দ্র; তাই দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কমিশন। পোস্টাল ভোট গণনা শেষ হলেই ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি। তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ছিল ৫ মার্চ। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় ৬ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তির দিন ১১ মার্চ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ মার্চ এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে আগামী ১৫ মার্চ। ভোট ৯ এপ্রিল। বগুড়া-৬ আসনে তিনজন ও শেরপুর-৩ আসনে পাঁচজন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন।