সারা দেশে যখন হাম পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে যাচ্ছে, সিলেটে তখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে রোগটি। গেল কয়েক দিন সিলেটে বেড়েই চলেছে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃতুও। ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে হামের চিকিৎসার জন্য ‘ডেডিকেটেড’ করা হয়েছে। কিন্তু রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে সেখানেও মিলছে না ঠাঁই। আর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সিলেটে এখন হামের ‘পিক টাইম’ চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানান, গতকাল সকাল ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগের ১৫ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯২-এ। এর মধ্যে নমুনা পরীক্ষায় কারও হাম শনাক্ত হয়েছে, আবার কেউ হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। সিলেটে ল্যাব টেস্টের সুযোগ না থাকায় হাসপাতালে আসা সব রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। অবস্থা জটিল হলে কারও কারও নমুনা ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নমুনা পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১০৪ জনের। এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে সিলেটে মারা গেছে ১২ জন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ জন ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতেও শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গতকাল সকাল পর্যন্ত ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল ৯৫ জন। এ ছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট গতকাল সকালে পূর্ণ ছিল। হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে কেউ গেলে তাকে পাঠানো হচ্ছে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও মিলছে না শয্যা। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালে যখন শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয় তখন এক বেডে একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়। সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া রোগীদের আত্মীয়স্বজনের ভিড় ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সংক্রামক এ রোগের আরও সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গতকাল সকাল পর্যন্ত শামসুদ্দিন ও ওসমানী হাসপাতাল ছাড়া মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৮, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৫, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৮ ভর্তি রয়েছে। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও বাড়ছে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। ৩১ শয্যায় দুটি ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন-চারটি শয্যার আইসোলেশন ইউনিট করা হলেও অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ। সিলেট জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, সিলেটে এখন হামের ‘পিক টাইম’ চলছে। উত্তরবঙ্গে পিক টাইম অতিক্রম করায় আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে। সিলেটে এখন বাড়লেও কয়েক দিন পর কমতে শুরু করবে। হাম প্রতিরোধে এখন টিকাদানের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে প্রয়োজনে আরও একটি হাসপাতাল চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড করার প্রয়োজন হতে পারে।