উত্তরের ৮ জেলার জন্য নেই প্রয়োজনীয় আইসিইউ সেবা। প্রায় দেড় কোটি মানুষের চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০ ও বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৮ বেডের আইসিইউ আছে। বিভাগের ৬ জেলা সদরের অন্য হাসপাতালগুলোতে অবকাঠামো থাকলেও সেবা নেই। জনবল সংকটে চালু করা যায়নি আইসিইউ সেবা। জয়পুরহাটে উদ্বোধনের পরও সেবা বন্ধ শুধু জনবল সংকটের কারণে। ফলে আইসিইউর অভাবে অনেকেই মারা যাচ্ছেন। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের অনেকে আসছেন উত্তরের সবচেয়ে বড় এই হাসপাতালটিতে সেবা নিতে।
বগুড়ার গণমাধ্যমকর্মী সঞ্জু রায় গতকাল সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘এত পরিচিতি এত শুভাকাক্সক্ষী আমি তার অপারগ ছেলে, বগুড়া মেডিকেলে তার জন্য আইসিইউর ব্যবস্থা করতে পারিনি, পায়নি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ। বাঁচার জন্য ছটফট করতে করতে আমার বাবা আমাদের বুকে তার প্রাণ ত্যাগ করে বিদায় নিয়েছেন এই পৃথিবী থেকে।’
সঞ্জু রায়ের মতো স্বজনদের বাঁচানোর আকুতি অনেকের। কিন্তু প্রয়োজনীয় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) না থাকায় হাসপাতালগুলোতে গিয়ে সেই সেবা পাচ্ছেন না মানুষ। উত্তর ও দক্ষিণের অনেক জেলার ভরসা তাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সেখানেও আইসিইউর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে কোনো আইসিইউ বেড নেই। নওগাঁ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবুজার গাফফার জানান, করোনাকালীন দুটি বেড দেওয়া হয়েছিল। জনবল না থাকায় সেটি চালু করা যায়নি। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে তিনটি আইসিইউ বেড ছিল। এখন বন্ধ। এই জেলার বেসরকারি অ্যাসোর্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৬টি আইসিইউ বেড থাকার তথ্য পাওয়া যায়। জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ২০২২ সালে ১০ শয্যার আইসিইউ বেড উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু সেবা পাননি নাগরিকরা। জনবল না থাকায় চালু করা যায়নি। হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক জানান, জনবল না থাকায় আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে কোনো আইসিইউ নেই। তবে ১০ শয্যার সিসিইউ বেড আছে। নাটোর জেনারেল হাসপাতালেও আইসিইউ বেড নেই। আবাসিক চিকিৎসক ডা. সম্রাট জানান, নামেই জেনারেল হাসপাতাল। বাস্তবে আগের মতোই অবস্থা। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বেড নেই। তবে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৮ শয্যার আইসিইউ বেড আছে। এ ছাড়া বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজে ১০টি বেড আছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ৬০ শয্যাবিশিষ্ট দেশের বৃহত্তম আইসিইউ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শয্যা ৪০ ও শিশুদের ২০টি। কিন্তু এটি সরকারের অনুমোদন পায়নি। চলছে হাসপাতালের নিজস্ব উদ্যোগে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থায় প্রাপ্তবয়স্কদের ৪০টি শয্যার মধ্যে যুবকদের ১২টি, বয়স্কদের জন্য ১৬ ও ১২টি শয্যা শিশুদের জন্য ব্যবহার করছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল সরবরাহ না করায় শিশুদের ২০টি শয্যা চালু করা যাচ্ছে না। কিন্তু শিশুদের আইসিইউর চাহিদা অনেক বেশি।
রামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম বলেন, রাজশাহী মেডিকেলে বর্তমানে ৪০ শয্যার যে আইসিইউ চলছে, সেটা সরকার অনুমোদিত নয়। সম্পূর্ণ হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলে এটি। এখানে সরকার একজনকেও নিয়োগ দেয়নি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে এখানে রোগী পাঠানো হয়। ১৯ মার্চ সর্বশেষ সিরিয়ালের রোগীর ঠিকানা ছিল রাজবাড়ী। তার মানে ঢাকা বিভাগের রোগীও একটা আইসিইউ শয্যার জন্য এখানে চলে আসছেন।’