খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরে নতুন পরিচালক হিসেবে ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন ঈদের সপ্তাহ খানেক আগে অর্থাৎ ১৯ মে বিকালে যোগদান করেন। এর আগে তিনি মোংলা পোর্ট হেলথ অফিসার (সংযুক্ত) হিসেবে খুলনার খালিশপুরে কর্মরত ছিলেন। আর পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েই তিনি ২০ ঘণ্টার মধ্যে দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষক, প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী, সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারীসহসহ ১৫ জনকে বদলি ও পদায়ন করেছেন। অভিযোগ উঠেছে নিজস্ব বলয় তৈরি করার জন্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন এই গণবদলি করেছেন। শুধু তাই নয়, অবসরের ছয় কর্মদিবস আগে বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাতাব হোসেনকে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে প্রেষণে পাঠিয়েছেন। আউটসোর্সিং কর্মীকে সরকারি কর্মচারীর মতো দাপ্তরিক স্মারক নম্বর ও আদেশে বদলি করা হয়েছে। পরিচালকের যোগদানের পর হঠাৎ বদলি-পদায়নে খুলনায় স্বাস্থ্য খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যোগদান করার পর দিনই নতুন পরিচালক অধস্তন কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। তাতে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সফিউর রহমান, ফকিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শাহারিয়ার আলম রাসেলসহ বহিরাগত কয়েকজন। এর পরই ১৫ জনকে বদলি-পদায়নে আদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিগত দিনে খুলনা স্বাস্থ্য দপ্তরে বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেটের অভিযোগে বদলি হওয়া স্টেনোগ্রাফার ফরিদ আহমেদ মোল্লাকে পরিচালকের কার্যালয়ে ফের ফিরিয়ে আনার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা খুলনার স্বাস্থ্য দপ্তরে পুরোনো সিন্ডিকেটকে ফেরাতে এই বদলি ও পদায়ন করা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন।
অবসরের ছয় কর্মদিবস আগে বদলিকৃত প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাতাব হোসেন জানান, আগামীকাল ৪ জুন তিনি অবসরে যাবেন। নতুন পরিচালকের সঙ্গে তাদের কথাও হয়নি। কিন্তু তিনি যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাদের বদলি করা হয়। একদিন ওই চিঠি গোপন রেখে ২১ মে বদলি আদেশের সঙ্গে ছাড়পত্রও দেওয়া হয়। প্রথা অনুযায়ী চাকরির এক বছর থাকতে কাউকে বদলি করা হয় না। কিন্তু মাত্র ছয় কর্মদিবস বাকি থাকতে তাকে হয়রানিমূলক বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনেকে খুলনায় বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের নির্মাণ তদারকি ও হস্তান্তর কমিটির সদস্য হওয়ায় বদলির কারণে হাসপাতাল হস্তান্তর প্রক্রিয়াও থমকে গেছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, ব্যাপক বা গণবদলি বলে কোনো বিষয় নেই। যারা অন্যায়কারী তাদের কিছুটা রদবদল করা হয়েছে। ছয় কর্মদিবস বাকি থাকতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বদলি উদ্দেশ্যমূলক কিনা জবাবে তিনি বলেন, চাকরি বিধি অনুযায়ী এটি করা হয়েছে।