মধ্যপ্রাচ্যে টানা উত্তেজনার মধ্যে অবশেষে স্বস্তির বার্তা মিলেছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তেহরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে।


এই যুদ্ধবিরতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জড়িয়ে আছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-কে ঘিরে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ট্রাম্পের শর্ত ইরানকে এই পথ অবিলম্বে নিরাপদ ও উন্মুক্ত করতে হবে।


ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব পেয়েছে এবং তারা বিশ্বাস করে যে এটি ‘আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি’।


তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘প্রায় সবকটি বিরোধপূর্ণ বিষয়ে’ একমত হয়েছে এবং এই দুই সপ্তাহ চুক্তিটি ‘চূড়ান্ত ও সম্পন্ন’ করার সুযোগ দেবে।


জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের পক্ষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে তেহরানের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করা হলে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।’


আরাগচি আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ‘সাধারণ কাঠামো’ গ্রহণ করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উভয় পক্ষকে ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধরত সব পক্ষ ‘লেবাননসহ সর্বত্র অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়েছে।


শেহবাজ শরীফ আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে তাদের প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানান, যাতে সব বিরোধ মেটাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করা যায়।


উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই প্রণালিতে আংশিক অবরোধ আরোপ করেছিল, যার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে।


সংঘাত শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও এতে জড়িয়ে পড়ে, ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়। ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।