ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হোসেইন জালিল রহিমি জাহানাবাদি বলেছেন, ‘আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ হিসেবে দেখি না। এটাকে আমরা কোনো হুমকি বলেও মনে করি না। এ বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।


রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ হিসেবে দেখি না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার একটি স্পষ্ট নিদর্শন হিসেবেই এ চুক্তিকে বিবেচনা করি। সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ বা সংঘাত নেই। তুরস্ক ও পাকিস্তান ইরানের অত্যন্ত ভালো বন্ধু। তাই, মক্কা শান্তি চুক্তি নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ নেই। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে আমরা ভালোভাবে অবগত। বর্তমান সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। তাই আপনাদের সরকারের নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তই আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় নয়। আপনারা জানেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমরা কেবল আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করেছিলাম। আমরা কখনোই কোনো আরব দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ড বা ভূমিতে আক্রমণ করিনি।’


জলিল রহিমি জাহানাবাদি বলেন, এমন এক সময়ে মক্কা চুক্তিটি হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজের এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। হরমুজ প্রণালির মতো বাণিজ্য পথগুলো পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। আমার দৃষ্টিতে, মক্কা চুক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়েরই একটি সম্পূরক অংশ মাত্র। এ অঞ্চলের ইসলামি দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অস্ত্রভান্ডার তাদের কাক্সিক্ষত নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়। তাই আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের জন্য কোনো হুমকি বলে মনে করি না এবং এ বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত।


ইরান মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে কি না-জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা এতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ বা প্রস্তাব জমা দিইনি। তবে মক্কা চুক্তির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে যদি আমাদের কোনো আমন্ত্রণ বা প্রস্তাব দেওয়া হয়, আমরা তা বিবেচনা করব।