ইরানে আগেই কঠোর আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে অনুযায়ী শনিবার রাতে (ইরানি সময়) তেহরানের বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রে শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে ব্যাপক বিস্ফোরণে তেলসহ আগুন শহরব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ইরানও তাৎক্ষণিক বড় মাত্রার পাল্টা আঘাত হেনেছে আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন অবস্থানসহ বিভিন্ন স্থাপনায়। ওইসব জায়গার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষেরই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানা গেছে। ইরান বলেছে, ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এসব হামলার কঠিন মূল্য দিতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘বাড়াবাড়ির ফল’ খুব খারাপ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সূত্র : রয়টার্স, এএফপি, আলজাজিরা, বিবিসি


প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শনিবার রাতে তেহরানের বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। এর পরপরই আকাশে আগুনের গোলা ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় ছেয়ে যেতে থাকে চারদিক। হামলার সময় বিস্ফোরণের শব্দে শুধু তেহরান নয়, পাশের শহর কারাজও কেঁপে ওঠে। একই সঙ্গে তেহরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। তেলক্ষেত্রে হামলার ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। নিহতের সবাই একটি তেল ট্যাংকারের চালক। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, তেহরান এবং আলবোর্জ প্রদেশের মোট চারটি তেলক্ষেত্র এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য কেন্দ্রে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে ইরান জানিয়েছে, তেলক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনোরকম জ্বালানির ঘাটতি হচ্ছে না। ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরানের পশ্চিমে আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ তিনটি এলাকার জ্বালানি ডিপোতে হামলা চালানো হয়েছে।


তেহরানআরেক খবরে বলা হয়, তেহরানের তেলক্ষেত্রগুলো বিস্ফোরিত হয়ে ডিপোগুলো থেকে তেল চুইয়ে তেল ও আগুন একসঙ্গে হয়ে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার অনেক অংশে ঢুকে পড়ে। ফলে মনে হতে থাকে শহরের রাস্তার পাশগুলো যেন এক একটি ‘আগুনের নদী’। তেহরানের সংস্কৃতি ও শিল্পবিষয়ক এক্স অ্যাকাউন্ট ‘লিভিং ইন তেহরান’ থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের একটি রাস্তার দীর্ঘ অংশজুড়ে আগুন জ্বলছে। জানা গেছে, ইরানের তেল ভান্ডারে বিস্ফোরণের কারণে বিভিন্ন স্থানে ‘বিষ বৃষ্টি’ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে তেহরান কর্তৃপক্ষও নাগরিকদের সতর্ক করেছে। বলা হয়েছে, এই বৃষ্টি গায়ে লাগলে ত্বকে রাসায়নিক দহন এবং ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে।


তেলক্ষেত্রে হামলা ছাড়াও এদিন ইরানের কেন্দ্রীয় শহর নাজাফাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ডাবল-ট্যাপ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২০ জনের বেশি নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আহতদের উদ্ধার করতে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। ঠিক সেই সময় কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একই স্থানে দ্বিতীয় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।


ইরানের পাল্টা আঘাত : তেহরানের তেলের ডিপোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে কুয়েতের সরকারি ভবন ও দুটি তেলের ডিপোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার পর তেলের ডিপোতে বড় মাপে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ বিষয়ে কুয়েতের সরকারি বার্তা সংস্থা কুয়েত নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের সদও দপ্তর ভবনে গতকাল ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ২২ তলা ভবনটিতে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। বলা হয়, হামলার পর সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের সদও দপ্তর এবং আশপাশের ভবনগুলো থেকে নিরাপত্তা প্রহরীসহ সবাইকে এবং প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়।


আরেক খবরে বলা হয়, সরকারি ভবনে হামলার পাশাপাশি কুয়েতের দুটি তেলের ডিপোতে ইরানি ড্রোন আঘাত করায় বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থিত ডিপো দুটিতে বিরাট অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। ডিপো দুটির অবস্থান বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় বিমানবন্দরেও ছড়িয়ে পড়েছে আগুন। কুয়েতের ফায়ার সার্ভিস বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি ভবন ও তেলের ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।


প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ড্রোন হামলা ছাড়াও এদিন বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘জুফেয়ার’-এ আঘাত হানে। এ বিষয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, ৭ মার্চ ইরানের একটি পানি শোধন কেন্দ্রে (ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট) যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইরানের কিশম দ্বীপে অবস্থিত একটি পানি শোধন কেন্দ্রে মার্কিন বাহিনী যে আগ্রাসন চালিয়েছে, তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইনের জুফেয়ার ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এ অভিযানে ইরানের তৈরি উচ্চ প্রযুক্তির প্রিসিশন-গাইডেড সলিড ও লিকুইড ফুয়েলচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য, বাহরাইনে অবস্থিত এ মার্কিন ঘাঁটিটি মূলত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শত্রুর যেকোনো হামলার দাঁতভাঙা জবাব এভাবেই দেওয়া হবে।


এদিকে ইরানের পানি শোধনাগারে হামলার জবাবে গতকাল ইরানও বাহরাইনের একটি পানি শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ হামলায় লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানানো হয়নি।


প্রাপ্ত খবরে আরও জানা গেছে, গতকাল ইরান শুধু বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি, একটি পানি শোধনাগারেই হামলা চালায়নি- তারা কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। খবরে বলা হয়, এ হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জ্বলতে দেখা গেছে। গতকাল ভোরে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এ বিষয়ে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-আতওয়ান জানান, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান এখন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। আরেক মুখপাত্র বলেন, কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী আকাশসীমা লঙ্ঘন করা শত্রুপক্ষের ড্রোনের একাধারে টানা হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। গতকাল ভোরে কুয়েত সিটিতে ড্রোন হামলার পর একটি ভবনে আগুন লেগে যায়। ভবনটি একটি সরকারি স্থাপনা, যা পাবলিক ইনস্টিটিউশন ফর সোশ্যাল সিকিউরিটির দ্বারা পরিচালিত। ভবনটির বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


প্রসঙ্গত, এ হামলার আগে (শনিবার) ইরান দুবাই বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছিল। হামলার সময় একের পর এক আছড়ে পড়তে থাকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। ফলে তড়িঘড়ি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বন্ধ হয়ে যায় বিমান পরিষেবা।? একাধিক বিমান সংস্থা বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ বাতিল ঘোষণা করে। যার জেরে ভোগান্তিতে পড়েন কয়েক হাজার যাত্রী।


হরমুজ প্রণালিতে ডুবল আমিরাতের টাগবোট : আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী একটি টাগবোট ডুবে গেছে। এ ঘটনায় টাগবোটে থাকা সাতজন নাবিকের মধ্যে তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। ডুবে যাওয়া টাগবোটটির নাম মুসাফা। যে তিনজন নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন তারা সবাই ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক।


ইরানি হামলায় আমিরাতে নিহত বেড়ে ৪ : ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি, পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে। খবরে বলা হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১১২ জন। তাদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, সুদান, ইথিওপিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, লেবানন, আফগানিস্তান, বাহরাইন, কোমোরোস ও তুরস্কের নাগরিক রয়েছেন। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। এ পর্যন্ত আমিরাতের দিকে ২৩৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১ হাজার ৪২২টি ড্রোন ও ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস, ১ হাজার ৩৪২টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে আমিরাত। পাশাপাশি ধ্বংস করা হয়েছে ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও।


ইরানি হামলায় মার্কিন বাহিনীর ২০০-এর বেশি হতাহত : ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা হামলায় শনিবার পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ২০০ জনের বেশি সদস্য নিহত বা আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের এক মুখপাত্র। ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সমন্বিত কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়ার কেন্দ্রীয় সদও দপ্তরের মুখপাত্র এ তথ্য জানান। ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ ওই মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শনিবার ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে ইরানের শক্তিশালী পাল্টা হামলায় মার্কিন বাহিনীর বহু সেনা ও কমান্ডার হতাহত হয়েছে। মুখপাত্র উল্লেখ করেন, ইরানের ‘ট্রুু প্রমিজ ৪’ অভিযানের অধীনে চালানো এসব হামলায় এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে চালানো হামলায় ২১ আমেরিকান সেনা নিহত ও আরও অনেকে আহত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতে চালানো হামলায় প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা হয় নিহত অথবা আহত হয়েছে। আর পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে আরও অনেককে হতাহত করা হয়েছে।


ইসরায়েলে ২ হাজার মানুষ হাসপাতালে : ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলে প্রায় ২ হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বলা হয়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ে মোট ১ হাজার ৯২৯ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১২২ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি। এর মধ্যে নয়জনের অবস্থা গুরুতর, যদিও তারা সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়নি বলে দাবি করা হয়। গতকালও ২৪ ঘণ্টায় ১৫৭ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্র জানায়। 


ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি : ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি বলেছেন, ‘এর জন্য মূল্য চোকাতে হবে ট্রাম্পকে। কঠিন মূল্য দিতে হবে।’ তিনি এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘আমাদের নেতা এবং আমাদের মানুষের রক্তের প্রতিশোধ আমরা নেব। ট্রাম্পকে মূল্য চোকাতেই হবে, তিনি তা চোকাবেন। ইরান প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত ট্রাম্পকে ছেড়ে দেবে না।’


এর জবাবে ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি উড়িয়ে জানান, তিনি লারিজানিকে চেনেন না। তিনি কী নিয়ে কথা বলছেন, তাও জানেন না। তার পরেই বলেন, ‘ইরানে হামলা চলবে, যতক্ষণ না তারা নিঃশর্তে আত্মসমর্পণ করছে। বাড়াবাড়ির ফল খুব খারাপ হবে।’ ট্রাম্প লারিজানিকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, ‘উনি কী বলছেন বা উনি কে- আমি কিছুই জানি না। আমি একেবারেই পরোয়া করি না।’