মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় (হাই এলার্ট) রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শনিবার দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন থেকে বিরত থাকতে কড়া হুঁশিয়ারি দেন।


সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শত্রু পক্ষ যদি কোনো ভুল করে তবে তারা কেবল নিজেদের নিরাপত্তা নয়, বরং পুরো অঞ্চল এবং জায়নিস্ট শাসনের নিরাপত্তাকেও নিশ্চিতভাবে বিপন্ন করবে। তিনি জানান, ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে পূর্ণ প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে অবস্থান করছে।


উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে এই হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান অভিমুখে বিশাল নৌবহর পাঠানোর কথা জানান। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের সময় ফুরিয়ে আসছে। 


গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো বিমান হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছেন। মূলত ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের অজুহাতে গত এক মাস ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। জানা গেছে, বিক্ষোভ দমনে দায়ী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলার বিষয়টিও বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।


এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো ইরানের অর্থনৈতিক সংকটকে পুঁজি করে দেশটিতে অস্থিরতা উসকে দিয়েছে।


সম্প্রতি ইরানে অর্থনৈতিক মন্দা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দাবি করছে। তবে ইরান সরকার এই অস্থিরতাকে বাইরের মদদপুষ্ট নাশকতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।