ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বেলা ২টার দিকে ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ কথা বলার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কাছে যান। কথা বলার একপর্যায়ে পেছন দিকে কিছু যুবক ডিম নিক্ষেপ করে এবং হামলা চালায়। এতে এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় যুবক আহত হন। এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘জেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদাবাজ আবদুল মজিদ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল সভাপতির নেতৃত্বে হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। আমাদের জায়গা থেকে আমরা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখেছি। হামলাকারীরা আমাদের অনেকের ফোন-ক্যামেরা থেকে শুরু করে মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারা অনেকগুলো ডিম নিক্ষেপ করে। হামলার সময় হকিস্টিকের আঘাতে আমাদের অনেক ভাই আহত হয়েছেন। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাকে এবং এনসিপি নেতা তারেক রেজাকে লক্ষ্য করে কিল-ঘুসি মারা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার চাই।’


অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সারা দেশে মব সৃষ্টি করে চলেছেন। আমরা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মবের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে আসছি। কিছুদিন আগে দেশনায়ক তারেক রহমানকে নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বীভৎস ভাষায় কথা বলেন। তখনো আমরা ধৈর্য ধরে ছিলাম। কিন্তু আজ তারা জুমার নামাজের পর হরকাতুল জিহাদের সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের নিয়ে সশস্ত্র মব তৈরির পাঁয়তারা করছিল। এ কারণেই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্য সরকার দায়ী থাকবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এ ঘটনায় তাঁর ফেসবুক পেজে চারটি ছবিসংবলিত পোস্ট করে উল্লেখ করেছেন, ‘গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বিতর্কিত, সমালোচিত, মব ও সংঘাত উসকে দেওয়া ব্যক্তি হলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজও ঝিনাইদহে গিয়েছিলেন মব করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেখানে সাধারণ জনতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ডিম নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই প্রতিবাদের সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসীরা জনতাকে উদ্দেশ করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। গুলি চালানোর চেষ্টাকারী অস্ত্রধারী দুইজনই শিবিরের সন্ত্রাসী। তারা হলো সিয়াম উদ্দিন তুর্য ও আশিক। অনতিবিলম্বে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে অস্ত্রধারী এই দুইজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করার জন্য জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’ এদিকে সন্ধ্যায় পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, মামলা না নেওয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতারা থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করছিলেন। সন্ধ্যা ৭টা থেকে অবস্থান শুরু করা হয়। মামলা গ্রহণ না করা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে বিক্ষোভ থেকে উল্লেখ করা হয়।