ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা লুকিয়ে আছেন ভারতেই। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) বর্তমান ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরের উপকণ্ঠে নারায়ণপুর থানার অন্তর্গত পশ্চিম বেড়াবেড়ির মেঠোপাড়া। মুসলিম অধ্যুষিত ঘনবসতি মেঠোপাড়ার ঝনঝন গলিতে অবস্থিত চার তলা একটি ভবনের প্রথম তলার ফ্ল্যাটে আত্মগোপনে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)। এদিকে হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাবে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে মেঠোপাড়া এলাকায় বাপ্পীর ছবি দেখাতেই স্থানীয় এক নারী জানান, তিনি তাকে ওই এলাকায় দেখেছেন এবং পুলিশ পরিচয় দিয়ে থাকতেন। এমনকি স্থানীয় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকও তাকে ওই এলাকায় দেখেন বলে দাবি করেছেন।
জানা যায়, প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে এ ঠিকানায় অবস্থান করছেন তারা। যদিও এ ঠিকানায় পৌঁছলে গা ঢাকা দেন তাইজুল। তারই সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে থাকা দলীয় কর্মী যুবলীগ নেতা মফিকুর রহমান উজ্জ্বল, মহম্মদ সাজিবুল ইসলাম ও মহম্মদ ওমর শরীফ জানান, ‘তাইজুল এই মুহূর্তে ফ্ল্যাটে নেই। আপনি নম্বর দিয়ে যান, তিনি এলে ফোন করতে বলব।’ তাদের বক্তব্য, ‘আমাদের বিরুদ্ধে হাদি হত্যার কোনো রকম মামলা নেই। বাপ্পী ভাইয়ের বিরুদ্ধে আছে, তবে সেটা মিথ্যা মামলা।’ আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ইতোমধ্যেই কলকাতা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। যদিও স্থানীয় নারায়ণপুর থানায় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এমন ঘটনা অস্বীকার করেন। ঝনঝন গলির মুখেই স্থানীয় এক দোকানদার ৭২ বছর বয়সি শেখ কুরবান জানান, ‘ওই ঘরের মধ্যেই অবস্থানকারী এক বাংলাদেশি নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা জানান, কয়েক দিন আগে তিনি এই ফ্ল্যাটে উঠেছেন। তার সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছেন। যদিও তার দাবি, বাপ্পী বলে এখানে কেউ থাকতেন না, এই নামে কাউকে চেনেন না।’
হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাবে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এ আদেশ দেন। সিআইডির উপপুলিশ পরিদর্শক মো. আবদুল লতিফ এসব হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং বিষয়ক অভিযোগটি সিআইডিতে অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অনুসন্ধানকালে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত মো. ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির নামে হিসাবসমূহ বিশ্লেষণে যথেষ্ট সন্দেহজনক লেনদেন পরিলক্ষিত হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত মো. ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এটি অপরাধ। এ জন্য তার সম্পদসমূহ বাজেয়াপ্ত করা একান্ত প্রয়োজন। অন্যথায়, অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই হিসাবসমূহে স্থিত অর্থ বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।