দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় এক গৃহবধূ ও তাঁর দুই শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় অমরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর বালুপাড়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে স্বর্ণা আক্তার (২৪), তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে সাফায়েত এবং নয় মাস বয়সী মেয়ে রাইফা জুরাইনাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী শাকিল হোসেন, শ্বশুর মাহতাব উদ্দিন ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত স্বর্ণার বাবা খাইরুল ইসলাম বাদী হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর আমিন জানান, ঘরের দেয়ালে লেখা একটি বার্তায় পারিবারিক সংকটের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে ওই বার্তার প্রেক্ষাপট এবং তিনজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বর্ণা ও শাকিলের প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান ছিল। স্বামীর মাদক সেবন নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। স্বর্ণার মা আনজু আরার দাবি, তিন মাস আগেও তাঁর মেয়ে স্বামীর মাদক সেবনের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।


শ্বশুর মাহতাব উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে রাতের খাবারের সময় পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি ডাকাডাকি করেন। একপর্যায়ে দরজা না খোলায় ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং পুত্রবধূর মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।


ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য নির্ধারণে তদন্ত চলছে। মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণের পর এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যাবে।