চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা নিয়ে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড-এর সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ফের জোরালো হচ্ছে আন্দোলন। ২৭ সেপ্টেম্বর বন্দর অভিমুখে মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। অপরদিকে বন্দর রক্ষা কমিটি ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে। এর পরও চুক্তি প্রক্রিয়া বাতিলের ঘোষণা না দিলে এ দুটি প্ল্যাটফর্ম থেকে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধসহ চার দফা দাবি জানায় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। তারা দাবি আদায়ে দুই দিনের আলটিমেটামও দেয়। সেই আলটিমেটাম পার হয়ে গেলে গত মঙ্গলবার বন্দরসংলগ্ন নিমতলা এলাকায় মানববন্ধন করা হয়। সেখান থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়। এদিকে আগামী ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম। ওই সভা থেকে সরকারকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়ার ক্ষতিকর দিক নিয়ে জাতীয় সংলাপ আহ্বানের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া বাতিল না করলে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।


এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দিয়ে বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার দাবিতে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টার্মিনালটি পরিচালনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারও ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগোতে থাকলে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিকসংগঠনগুলো। এতে টানা কয়েক দিন অচল ছিল দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। ওই সময় বন্ধ হয়ে পড়েছিল আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। একপর্যায়ে চুক্তি হচ্ছে না বলে তখন সরকারের তরফে ঘোষণা দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে।


গত ৩০ আগস্ট লালদিয়া এপিএম টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আরও কয়েকটি পোর্ট নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি, যারা এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মান আছে, তাদের আগ্রহ রয়েছে। এ জায়গায় দেশের স্বার্থ, অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিবেচনা করে আমাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।


বিভিন্ন সময় সরকারের তরফে বলা হয়েছে, টার্মিনালটি পুরোনো হয়ে গেছে। এতে আধুনিক সরঞ্জামাদি সংযোজন করতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে-এমন প্রতিষ্ঠান এলে এনসিটিতে হ্যান্ডলিং বাড়বে। আমদানি-রপ্তানিকারকরা উপকৃত হবেন।


অপরদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, এনসিটি বন্দরের একটি চালু টার্মিনাল। এতে পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি রয়েছে। বর্তমানে এ টার্মিনালে হ্যান্ডলিং কার্যক্রম চলছে। বন্দর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এটি চালু রাখতে পারে। বিদেশি অপারেটরের প্রয়োজন নেই। তারা আরও বলেন, এনসিটি বিদেশিদের হাতে দিলে বর্তমানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। এ ছাড়া হুমকির মুখে পড়তে পারে জাতীয় নিরাপত্তা।


নিউমুরিং টার্মিনাল বন্দরের চারটি টার্মিনালের মধ্যে সবচেয়ে বড়। প্রায় ৪৪ শতাংশ পণ্য বন্দরের অর্থায়নে নির্মিত এ টার্মিনালে হ্যান্ডলিং হয়। গত বছরের ৭ জুলাই থেকে এটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নৌবাহিনী পরিচালনাধীন প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড।