যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২৩ জন শিক্ষক শিক্ষা ছুটির নির্ধারিত মেয়াদ পার হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতিষ্ঠানটির মোট ৪৫০ শিক্ষকের মধ্যে ৯৪ জন শিক্ষা ছুটিতে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাঁরা পিএইচডি বা পোস্টডক্টরাল গবেষণার কাজে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেছেন। এই ৯৪ জনের মধ্যে ২৩ জনের ছুটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হলেও তাঁরা কর্মস্থলে ফেরেননি। তাদের পেছনে বেতন-ভাতা বাবদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন, যদি তারা নির্ধারিত সময়ে চাকরিতে না ফেরেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সমুদয় বেতন-ভাতার টাকা ফেরত দিতে হবে।
মেয়াদোত্তীর্ণ ছুটিতে থাকা ২৩ শিক্ষকের মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ও মাইক্রোবায়োলজি (এমবি) বিভাগের চারজন করে শিক্ষক রয়েছেন। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের রয়েছেন তিনজন, আর ফার্মেসি এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (ইএসটি) বিভাগের দুজন করে। এ ছাড়া শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল (আইপিই), রাসায়নিক প্রকৌশল (সিএইচই), উৎপাদন ও যন্ত্র প্রকৌশল (পিএমই), তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই), বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএমই), জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবিটি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সিস্টেম (এআইএস) এবং এনএফটি বিভাগ থেকে একজন করে শিক্ষক ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যোগদান করেননি।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, শিক্ষকদের একটি বড় অংশ বিদেশে অবস্থান করায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক বিষয়ের সিলেবাস যথাসময়ে শেষ হচ্ছে না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, দেশের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার সুযোগ-সুবিধায় সংকট রয়েছে। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মধ্য দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় অনেকে সেখানে গিয়ে আর ফিরতে চান না; উন্নত জীবন ও নিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানিও না ফেরার আর একটি কারণ। এভাবে মেধা পাচার ঠেকাতে বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষকদের জন্য সরকারের নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি বলে তাঁরা মনে করেন। যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশে যাওয়া শিক্ষকদের বিপরীতে একজন করে বিকল্প শিক্ষক নেওয়া হয়েছে, যাতে পাঠদান প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা না হয়।
বিদেশে থাকা ৯৪ শিক্ষকের বেশির ভাগেরই শিক্ষা ছুটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। যে ২৩ জন শিক্ষক মেয়াদ শেষেও কর্মস্থলে ফেরেননি, তাঁদের ইতোমধ্যে কয়েক দফা চিঠি ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এসব নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাঁদের চাকরিচ্যুত করে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।’ উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনও (ইউজিসি) এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কর্মস্থলে না ফেরা শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ইউজিসিও পদক্ষেপ নেবে।