নগরের নিরাপত্তায় বসানো ১১০টি সিসি ক্যামেরার অধিকাংশই এখন অচল। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী শনাক্তে পুলিশের ‘কৃত্রিম চোখ’ হিসেবে কাজ করা ক্যামেরাগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নেই কোনো বরাদ্দ। ফলে একটি ক্যামেরা নষ্ট হলেই মেরামত বা যন্ত্রপাতির জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) দ্বারস্থ হতে হচ্ছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশকে (এসএমপি)। সিসিকও নিজস্ব তহবিল থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করছে। এতে স্থায়ী সমাধানের বদলে জোড়াতালি দিয়েই চলছে নগরের নিরাপত্তাব্যবস্থা।


‘ডিজিটাল সিটি’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১১০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। প্রকল্প শেষে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) ক্যামেরাগুলো এসএমপির কাছে হস্তান্তর করে। মনিটরিংয়ের জন্য কোতোয়ালি থানায় গঠন করা হয় একটি সেল। ক্যামেরা চালুর পর এর আওতাধীন এলাকায় অপরাধ ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থল শনাক্ত এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ সুবিধা পায়।


কিন্তু কয়েক বছর না যেতেই একে একে বিকল হতে থাকে ক্যামেরাগুলো। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তার ও অ্যাডাপ্টার পুড়ে যাওয়া এবং অন্যান্য কারিগরি ত্রুটিতে ক্যামেরা নষ্ট হলেও তা মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্য এসএমপির নিজস্ব বরাদ্দ নেই। ফলে চাহিদাপত্র দিয়ে সিসিকের সহায়তার অপেক্ষায় থাকতে হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফরের আগে অধিকাংশ ক্যামেরা বিকল ছিল। এসএমপির অনুরোধে তখন প্রায় অর্ধকোটি টাকার যন্ত্রপাতি কিনে দেয় সিসিক। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই ফের কিছু ক্যামেরা নষ্ট হতে শুরু করে।


সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস বলেন, ছোটখাটো চাহিদা অনুযায়ী তারা এসএমপিকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে সহায়তা করেন। তবে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়। এসএমপির উপকমিশনার (সদর দপ্তর ও ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী শনাক্তে ক্যামেরাগুলো গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো ক্যামেরার অনেকগুলোই কাজ করছে না। এআই প্রযুক্তিসহ নতুন ক্যামেরা স্থাপনে সিসিকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। স্থায়ী প্রকল্প ছাড়া ক্যামেরা স্থাপনের পর রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন হয়ে পড়ে।