নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক ফকির হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে শুরু করেছে। তদন্তের ১৭ দিনের মাথায় বেরিয়ে এসেছে শুটার তাজুলের নাম। ছদ্দবেশে ধরা সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাজুলই গুলি করে। যা দুই আসামির জবানবন্দিতে উঠে আসে। খুনে অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে শুটার তাজুলই ছিলেন মূল পরিকল্পনাকারী। রবিবার রাতে আদালতে দুই আসামির দেওয়া স্বাীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ। জানা গেছে, সাবেক সেনাসদস্য নেত্রকোনা সীমান্তের দুই উপজেলার খবর সংগ্রহ করতেন আলিফ ফকির। সাজাপ্রাপ্ত আসামি, মাদক ও চোরাচালানের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থাকে দিতেন তথ্য। তারই তথ্যের কারণে ২০২২ সালে অস্ত্র মামলা গ্রেপ্তার হন তাজুল ইসলাম। পরে জামিনে বেরিয়ে এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হন তাজুল। পুলিশ, গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর তেলুঞ্জিয়া গ্রামে আলিফের দ্বিতীয় স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমার বাড়ির অদূরেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আলিফ। পরদিন স্ত্রী আটজনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা করেন। পুলিশ তার পরের দিন অপূর্ব নামের এক যুবককে আটক করে। এরপর এসবিআর প্রাঙ্গণ নামের আরেক যুবককে আটক করে। সর্বশেষ ডিবি পুলিশ গত শনিবার সুনামগঞ্জ জেলা থেকে ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) ও সাব্বির আহম্মেদকে (২৫) নামে দুজনকে আটক করে।
রবিবার বিকালে তাদের নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিয়ে আসা হয়। আটক ইমন ও সাব্বিরকে (২৫) আদালতে তোলা হয়। দুর্গাপুর চৌকি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়ার কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাদের জবানবন্দি রের্কড করে বিচারক দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে আরও জানান, আটকরা তাজুলের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন কাজ করাকালে সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসায় আলিফ বাধা দিতেন এবং পুলিশকে তথ্য দিতেন বলে তাদের ক্ষোভ ছিল। আসামিরা মোট পাঁচজন অংশ নেন হত্যাকাণ্ডে। তাজুল পিস্তল দিয়ে গুলি করেন এবং লোকজন এলে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে ঘটনাস্থল থেকে পালান। তবে এ ঘটনার পেছনে আরও অনেকের নাম এলেও তদন্তের স্বার্থে বলেননি। এদিকে আলিফ খুন হওয়ার দিন রাতে দুজন ব্যক্তি তাকে ফলো করছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী দোকানি রবিন রাংসা জানিয়েছিলেন।