টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ ব্রিজে রাতের আঁধারে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের কাজ রাতের আঁধারে করা হচ্ছিল। এতে সন্দেহ হলে তাঁরা গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন। একপর্যায়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে পান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০.০৬ মিটার দৈর্ঘ্য গার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ব্রিজটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ও শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। পরে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। ব্রিজের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ২০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বড় গ্যাপগুলোর ভিতরে রড দিয়ে কাজ করেছি। ছোট গ্যাপগুলো বাঁশ দিয়ে স্ল্যাব বানিয়ে ওপরে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে খাঁচা দিয়ে ঢালাই করেছি।’ উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি।  এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।’  ইউএনও মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’