সিলেটে অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছিল জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি)। অভিযানে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলার ১ লাখ ১ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পাথর রাখা হয় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যের জিম্মায়। পাথর বিক্রির জন্য আহ্বান করা হয় দরপত্র। কিন্তু নিলামের আগেই চুরির পাথর ‘ডাকাতি’ হয়ে গেছে। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েও ক্রেতা বুঝে পাচ্ছেন না পাথর। বিএমডির পক্ষ থেকে বারবার সময় নিয়েও ক্রেতাকে সমঝে দিতে পারছে না পাথর। কোটি টাকার পাথর উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ফাঁস হওয়ায় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুজিত দাস জানান, তাদের জিম্মায় যে পাথর রাখা হয়েছিল সেগুলো চুরি হয়ে গেছে। এখন জিম্মায় কোনো পাথর নেই।
পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াদ আলী জানান, পাথর চুরির বিষয়টি বিএমডি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু পাথর উদ্ধারে তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা থেকে চুরি করে উত্তোলিত ১ লাখ ১ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। বিএমডির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পাথরগুলো জব্দ করে স্থানীয় পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াদ আলী ও সদস্য সুজিত দাসের জিম্মায় রাখা হয়। এরপর ওই মাসেই বিএমডি জব্দকৃত পাথর নিলামে বিক্রির লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করে। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাড়ুয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পাথর জব্দ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় রাখার দুই দিনের মধ্যেই সেগুলো লুটে নেন পাথরখেকোরা। চুরির পাথর এবার তারা ডাকাতি করে নিয়ে যান। লুটকৃত পাথরের একাংশ নিয়ে রাখা হয় চিকাডহর গ্রামে। আর লুটকারীরা বড় অংশ বিভিন্ন ক্রাসার মেশিনে নিয়ে ভেঙে বিক্রি করে দেন।
এদিকে, জব্দকৃত ১ লাখ ১ হাজার ঘনফুট পাথরের মধ্যে ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ ৯৬ হাজার ঘনফুট ৯৭ টাকা দরে ও ৫ হাজার ঘনফুট ১০০ টাকা দরে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে কিনে নেন পাড়ুয়া এলাকার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম। কিন্তু সরেজমিন দিয়ে তিনি কোনো পাথর না পেয়ে যোগাযোগ করেন বিএমডি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। তারা পাথর সমঝে দিতে বারবার সময় চাইতে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পাথর বুঝে পাননি।
নিলামে পাথর ক্রয়কারী ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হই। কিন্তু প্রশাসন তা বুুঝে দিচ্ছে না। বিএমডির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বারবার সময় নেন। সর্বশেষ গত জুন মাসে আমাকে পাথর বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন বিএমডির দায়িত্বশীল কেউ ফোনই ধরছেন না।’
খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর (বিএমডি) পরিচালক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসন সেগুলো দেখার কথা। আমরা সেখানে যাব এবং দেখব পাথরগুলো কোন অবস্থায় আছে। এরপর ব্যবস্থা নেব।’