হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার একসময়ের খরস্রোতা জিয়া খাল দিনদিন নালায় পরিণত হচ্ছে। ক্রমাগত দখল আর দূষণের ফলে খালটি চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
জানা গেছে, ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শায়েস্তাগঞ্জে সরকারি সফরে এসে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। স্থানীয় কৃষক ও মেহনতি মানুষের জন্য এটি ছিল অনেক আনন্দের মুহূর্ত। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম হয়ে খালটি সুতাং নদে সংযুক্ত হয়। তখন থেকেই এর নাম হয় জিয়া খাল। দীর্ঘ দুই যুগ এটি উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিজমিতে পানি সরবরাহের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু বর্তমানে বেহালদশায় পরিণত হয়েছে খালটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের তীরবর্তী বাসিন্দারা ময়লা-আবর্জনা ফেলে প্রথমে খালটি ভরাট করেন, পরে তারা সেটি দখল করেন। প্রতিনিয়ত দখল আর দূষণের কারণে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ এখন প্রায় বন্ধ। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আর শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেয় পানির সংকট। এমতাবস্থায় কৃষি জমিসহ সবজি আবাদে ব্যাঘাত ঘটছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত দখলমুক্তকরণ, নিয়মিত খনন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক উদ্যোগ না নিলে খালটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোতাব্বির হোসেন বলেন, জিয়া খালের পানি দিয়ে শত শত একর কৃষিজমি ও সবজি আবাদ করা হতো। দখল আর দূষণের কারণে বর্তমানে খালে শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না। ফলে কৃষকরা বেকায়দায় পড়েন। এমতাবস্থায় বাধ্য হয়ে সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে পানি তুলতে হয়। আর এতে খরচ বেড়ে যায়। আমরা চাই দ্রুত খালটির পুনঃখনন এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হোক।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. করম আলী জানান, একসময় মাঘ-ফাল্গুন মাসে এ অঞ্চলের পুকুর, ডোবা ও বিলের পানি শুকিয়ে যেত। নলকূপের ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা ইরি-বোরো ও মৌসুমি ফসলের সেচ থেকে বঞ্চিত হতেন। তখন খালটি খনন করা হয়। এখনো সময় আছে দ্রুত প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে খালটিকে রক্ষা করা যাবে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জুল সোহেল বলেন, নদী, খাল, বিল, পুকুর আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এগুলোকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় পরিবেশের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে। এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হোসেন জানান, বরাদ্দ সাপেক্ষে খালটি দ্রুত খননের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।