সবুজের সমারোহ, খোলা আকাশ আর পদ্মার পার-রাজশাহীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো নগরবাসীর কাছে স্বস্তির ঠিকানা। কিন্তু সেই স্বস্তির বাতাসেই মিলছে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণা। রাজশাহীর ১৫টি বিনোদনকেন্দ্রে পরিচালিত এক গবেষণায় সব কটি স্থানেই পিএম২.৫-এর মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২৪ ঘণ্টার নির্দেশিত মানের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি স্থানকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড অনুযায়ী অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণায় সবচেয়ে বেশি পিএম২.৫ পাওয়া গেছে নগরীর জনপ্রিয় পদ্মা গার্ডেনে-প্রতি ঘন মিটার বাতাসে ১০৫ মাইক্রোগ্রাম। ডব্লিউএইচওর ১৫ মাইক্রোগ্রাম নির্দেশিত মাত্রার তুলনায় যা প্রায় ৭ গুণ। বিপরীতে সর্বনিম্ন ১১ মাইক্রোগ্রাম পাওয়া গেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমি এলাকায়। অর্থাৎ একই শহরের বিনোদনকেন্দ্রগুলোর বাতাসের মানে রয়েছে বড় ধরনের ব্যবধান। রুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের গবেষকরা ২০২৫ সালের মার্চ ও এপ্রিলে ১৫টি বিনোদনকেন্দ্রে পিএম২.৫, পিএম১০, পিএম১.০, ফরমালডিহাইড ও মোট উদ্বায়ী জৈব যৌগ পরিমাপ করেন। পাশাপাশি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সাময়িকী বুলেটিন অব অ্যাটমোসফেরিক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-তে।


গবেষণায় অস্বাস্থ্যকর বায়ুর ছয়টি স্থান হলো-পদ্মা গার্ডেন, শহীদ জিয়া শিশুপার্ক, কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, মুক্তমঞ্চ, সরমংলা ইকোপার্ক ও সাফিনা পার্ক। ১৫টি স্থানে পিএম২.৫-এর গড় ঘনত্ব ছিল ৪৯ দশমিক ২৪ মাইক্রোগ্রাম/ঘন মিটার। পিএম১০-এর গড় ৬১ দশমিক ১১ এবং পিএম১.০-এর গড় ৩৩ দশমিক ২২ মাইক্রোগ্রাম।


গবেষণায় দেখা গেছে, বিকাল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে অনেক স্থানে পিএম২.৫ ও পিএম১.০-এর মাত্রা বাড়ে। এ সময় দর্শনার্থীর চাপ, যানবাহন ও মানুষের চলাচল বাড়ার পাশাপাশি ধুলা ও সূক্ষ্ম কণার পুনঃ সঞ্চালনও ঘটে।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, পদ্মার পারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ময়লা ফেলা ও খাবারের দোকান ঘিরে পরিবেশগত সমস্যা রয়েছে। মানুষের সমাগম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্য সংগ্রহ ও দ্রুত অপসারণ এবং ধুলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, বিনোদনকেন্দ্রের বায়ুদূষণের সঙ্গে আশপাশের এলাকার দূষণ, বাতাসের গতিপথ ও মৌসুমি পরিস্থিতিও জড়িত। অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানবাহন ও শিল্পকারখানার নির্গমন এবং সবুজ এলাকা ও জলাধার কমে যাওয়ায় নগরীর বাতাসে সূক্ষ্ম কণার পরিমাণ বাড়ছে।