ভোটের মাঠে কালোটাকার প্রভাব ঠেকাতে ব্যাংক ও অব্যাংক খাতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। ভোটের সময় সীমিত করা হয়েছে ব্যাংক লেনদেন ও মোবাইল ব্যাংকিং। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক অঞ্চলে ইতোমধ্যে কালোটাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ভোটারদের ভয়ভীতিও প্রদর্শন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নিম্ন আয়ের ভোটারদের আর্থিক লোভ দেখিয়ে কিনে ফেলারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।


এদিকে  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালোটাকা ও পেশি শক্তির প্রভাব ঠেকাতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক, এনবিআর, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট, এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কালোটাকা ও পেশিশক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার। অবশ্য এসব প্রচার-প্রচারণাকে পাশ কাটিয়ে কোনো কোনো এলাকায় কালোটাকা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। এজন্য ১০ তারিখ মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত কোনো দলের কর্মী-সমর্থকরা যাতে ভোটারদের সঙ্গে অসৎ উদ্দেশে যোগাযোগ করতে না পারেন সেদিকেও নজর রাখা হ”েচ্ছ।


দুদক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন বলেন, সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধেই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ আসে। ফলে দুর্নীতিবাজ প্রার্থীদের মনোনয়ন ও নির্বাচনি রাজনীতির সংস্কৃতি বন্ধ না করা গেলে সামগ্রিকভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এজন্য এবারের নির্বাচনে কালোটাকার প্রভাব ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কঠোর নজরদারি রাখবে দুদক।


জানা গেছে, কারও বিরুদ্ধে কালোটাকা ছড়ানোর অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়-তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির মোবাইলে ব্যাংকিং এর লেনদেনও যাচাই করতে পারবেন দায়িত্বে নিযুক্তরা। আর এই সামগ্রিক পরিস্থিতি কঠোরভাবে মনিটরিং করছে নির্বাচন কমিশন।


সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দপ্তরগুলোকে। এজন্য দুদকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রার্থী ও ভোটারদের সচেতনতা ছাড়া কালোটাকার প্রভাব ঠেকানো সম্ভব না। একই সঙ্গে জেলা, উপজেলা পর্যায়ের স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন ঘিরে কালোটাকার ব্যবহার রোধ এবং প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই জোরদার করতে মাঠপর্যায়ে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এজন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।