চট্টগ্রামে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু শূন্য। তবু হাসপাতালগুলোর ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীর ভিড়। চলতি ডিসেম্বরের ১৫ দিনেই ২৪৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এই সংখ্যাটি গত বছরের এই সময়ের মাসগুলোর তুলনায় কম। তবু হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেশি।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার চট্টগ্রামের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ১১২ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ৩১ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, সিএমএইচ এ ১০ জন, নগরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৪৭ জন, ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতালে ১০ জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১০ জন ভর্তি ছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ৪ হাজার ৭৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ২৬ জনের মৃত্যু হয়। ডিসেম্বর মাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের কয়েক মাসের তুলনায় কম হলেও হাসপাতালের ভর্তির চাপ উল্লেখ করার মত।
চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল ফয়সাল মো. নুরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, মৃত্যু না থাকা মানেই ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তা নয়। ডিসেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চাপ রয়েছে। আগের তুলনায় রোগী কমলেও হাসপাতালের চাপ কমেনি। তবে অনেক রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে হাসপাতালে আনা হয় না। সাধারণ জ্বর মনে করে সময় নষ্ট করার ফলে রোগীরা শেষ মুহূর্তে বা সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছান। ততক্ষণে রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থা তৈরি হয়। তখন চিকিৎসা প্রদানের সুযোগও সীমিত হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে ওঠে।
জানা যায়, চলতি বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রোগী ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি ছিল। জুলাই মাসে ৪৩০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় এবং মরা যান ৭ জন। আগস্টে ৭০৫ জন রোগী শনাক্ত হন এবং মারা যান ৬ জন। সেপ্টেম্বর মাসে ৯৩৫ জন রোগী শনাক্ত হন এবং মারা যান ৪ জন। অক্টোবর মাসে ৯৯০ জন রোগী শনাক্ত হন এবং মারা যান ১ জন। নভেম্বরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭ জন রোগী শনাক্ত হয় এবং মারা যান ৬ জন। চলতি ডিসেম্বরের রবিবার পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয় ২৪৬ জন। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।