অভিযোগ-পালটা অভিযোগের কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিলেটের নির্বাচনি মাঠ। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই ‘জোট’ বিএনপি-জমিয়ত এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের  পরস্পরবিরোধী অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগ ও আশঙ্কার কথা তুলে ধরে ইতোমধ্যে দুটি সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপি। অভিযোগগুলো জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরেও জানানো হয়েছে। সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নির্বাচনি প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ দুই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভোট কেনার অভিযোগ তোলে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কায় একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিএনপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। ধর্ম ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনা, শিশু-কিশোরদের নির্বাচনি প্রচারে ব্যবহার, ভোট কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি এবং অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোট কেনারও অভিযোগ করেন তারা। এ ছাড়া বিএনপি নেতারা সংখ্যালঘু, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ও চা শ্রমিক ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ তাদের।


এ ছাড়া গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি জামায়াত প্রার্থীর ‘আইন লঙ্ঘন’-এর বিষয়টি তুলে ধরেন। মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, সিলেট-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান নির্বাচনি হলফনামায় আর্থিক ও ঋণগত অনেক তথ্য গোপন করেছেন। যা ইলেকশন কমিশন ও জনগণের প্রতি সুস্পষ্ট প্রতারণা। বিএনপির এই নেতা জানান, হাবিবুর রহমান যৌথ মূলধনী কোম্পানির পরিচালক হওয়া সত্ত্বেও তিনি নাম এবং কোম্পানির নামে থাকা বিপুল পরিমাণ ঋণের তথ্য গোপন করেছেন। মোটা অঙ্কের ঋণ যথাযথ সময়ে পরিশোধ করতে না পারায় পুনঃতফসিল করা হয়েছে। তিনি ইবনে সিনার পরিচালক এবং আল-কামারা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের শেয়ার হোল্ডার ও পরিচালক হাওয়া সত্ত্বেও হলফনামায় এসব তথ্য গোপন করেছেন। এর আগে জামায়াতের পক্ষ থেকে সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদিরের হলফনামায় উল্লিখিত প্রায় সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার ঋণের বিষয়টি তুলে ধরে প্রচার চালানো হয়। এর জবাবে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, গত ১৫-১৬ বছর স্বৈরশাসকের কারণে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেননি। যে কারণে সুদ বেড়ে ব্যাংকের পাওনা ৮০০ কোটিতে ঠেকেছে। এদিকে জামায়াতে ইসলামীও নানা আশঙ্কার কথা লিখিতভাবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলন করে মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে জানান, একটি দলের প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আসা বন্ধ করতে না পারায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলটির নেতারা।


অন্যদিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে অনশনে বসেছেন সিলেট-১ আসনের সিপিবি প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন। তিনি গতকাল সকাল থেকে মহানগরের চৌহাট্টার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই অনশন শুরু করেছেন। এ ছাড়া সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রযুক্তিবিদ মইনুল বাকরও গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’ বলে দাবি করেছেন।