মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে চাপ বেড়েছে। এর ফলে সরকারের পক্ষে ভর্তুকির লাগাম টানাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার অবশ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে তিন মাসের ব্যবধানে দুই দফা জ্বালানি তেল ও একবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এতে ভর্র্তুকি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু আর্থসামাজিক পরিস্থিতির ভিত মজবুত না হওয়ায় এবং ভর্তুকির পরিমাণ বেশি হওয়ায় অন্য কোনোভাবে সমন্বয় করতে পারছে না। অর্থবিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


এজন্য আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুধু ভর্তুকি-প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা খাতেই ব্যয় হবে ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি ২০২৫-২৬ বাজেটের তুলনায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বেশি। চলতি বাজেটে এ খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ১ লাখ ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। অবশ্য সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।


জানা গেছে, আইএমএফ আবারও নতুন শর্ত দিয়েছে সরকারের বাজেট নীতির ওপর। সরকারও এতে একরকম সম্মতি দিয়েছে। এজন্য আসছে ২০২৬-২৭ বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দেবেন সারা বছর ধাপে ধাপে তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হবে। এদিকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম দুই দফা বাড়িয়েছে সরকার। এ ছাড়া গতকাল প্রথমবারের মতো বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে। আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। এর ফলস্বরূপ চলমান ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন একটি ঋণ কর্মসূচির অফার দিয়েছে আইএমএফ। সরকারও এতে আগ্রহ দেখিয়েছে। ইতোমধ্যে সেই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে। তবে এই সময়সীমা অন্তত আরও তিন বছর করার জন্য আইএমএফকে এর বাস্তবতা প্রসঙ্গে বুঝিয়ে আসছে সরকার। যদিও আইএমএফ এখনো তাতে সম্মতি দেয়নি। সংস্থাটি বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে।


এদিকে অর্থবিভাগের তৈরি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ৩৭ হাজার কোটি টাকা, গ্যাসে সাড়ে ৬ হাজার কোটি এবং সারের জন্য ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বাবদ অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার ফলে উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ, এলএনজি ও কৃষি ভর্তুকি বাবদ অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। এর বাইরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে। জানা গেছে, সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণপ্রস্তাব অনুমোদন করে আইএমএফ।