চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিদ্যুৎ বিভাগের অনুকূলে ৪১টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকল্প সাহায্য (বৈদেশিক উৎস) ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) ৪ হাজার ৭১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৩৮১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গতকাল সংসদ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানানো হয়। হয়। কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ানোয় সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্নের মুখে পড়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বৈঠকে আরও জানানো হয়, বর্তমানে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট। আর প্রকৃত উৎপাদন ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট। প্রকৃত উৎপাদন ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট। আর প্রকৃত উৎপাদন আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বাজেট বরাদ্দ নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭-এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরব্যবস্থা স্থাপনকারী গ্রাহক ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০৩০ পর্যন্ত গ্রিডে দেওয়া উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটে ১০ দশমিক ৫০ টাকা ছাড় পাবেন। এ ছাড়া কমিটি রুফটপ সোলার প্যানেল থেকে কতটুকু বিদ্যুৎ ন্যাশনাল গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে তা আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করে।


এদিকে বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের যৌক্তিকতা এবং গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্নের মুখে পড়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। আইন অনুযায়ী ২৩ বছরেও জ্বালানির দাম নির্ধারণে গণশুনানি-সংক্রান্ত প্রবিধান তৈরি না হওয়ায় এর কারণ জানতে চেয়েছেন সংসদীয় কমিটির এক সদস্য। আরেক সদস্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই এবং ক্যাপাসিটি চার্জের যৌক্তিকতা নির্ধারণে ফরেনসিক অডিটের দাবি জানিয়েছেন।


বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে হাইকোর্টে একটি মামলার রায় হয়েছে। পরে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। সে কমিটির সুপারিশ কী ছিল, সুপারিশ কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে-এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে জানাতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি এলপিজি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গণশুনানি করা হয়েছে কি না-এসব বিষয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অগ্রগতি কতটুকু, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য সংশ্লিষ্টরা বৈঠকে দিতে পারেননি।


কমিটির আরেক সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ডিজেল হচ্ছে কৌশলগত জ্বালানি। ডিজেলের মজুত আছে মাত্র ৩১ দিনের। এটাকে কীভাবে বাড়ানো যায়, তাঁরা সেটা দেখতে বলেছেন। এখন ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে। তাঁরা এ বিষয়ে ফরেনসিক অডিটের কথা বলেছেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) অংশগ্রহণ করেন।