জাতীয় বাজেটে আংশিক রপ্তানিকারকদের শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বাড়ানোর ঘোষণা এলেও তিন মাস পরও এর প্রক্রিয়া সহজ হয়নি। ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) ও ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) পেতে দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত কাগজপত্রের কারণে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-১ শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে কমিটির জন্য প্রতিনিধি মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। কমিটি ইউডি ও ইউপি পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সুপারিশ করবে।


গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই শুধু ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে আরও ১০টি খাতকে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। খাতগুলো হলো মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, পুনর্ব্যবহৃত তুলার ব্যাগ এবং টেরি তোয়ালে।


প্রস্তাবিত কমিটিতে সরকারি পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি থাকার কথা। বেসরকারি খাত থেকে বিল্ড, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ ও এফএলএক্সএর প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইউডি-ইউপি পেতে সময় লাগায় কাঁচামাল আমদানি বিলম্বিত হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এ উদ্যোগ রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে সহায়ক হবে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। প্রক্রিয়াটি দ্রুত করতে তিনি বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে আলোচনা করবেন।


ব্যবসায়ীরা বলছেন, আংশিক শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ অথবা রপ্তানির বিপরীতে পরিশোধ করা শুল্ক ফেরতের ব্যবস্থা করা হলে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। তাঁর প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে প্রায় ২৫ শতাংশ কর ও শুল্ক দিতে হয়। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি ও ৫ শতাংশ এআইটি রয়েছে। রপ্তানির ক্ষেত্রে এর একটি অংশ ফেরত পাওয়া গেলেও প্রক্রিয়াটি জটিল ও ব্যয়বহুল। শেলটেক সিরামিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, সিরামিক খাতকে আংশিক বন্ড সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে রপ্তানি বাড়বে। উচ্চ শুল্কের কারণে দেশীয় উৎপাদকেরা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। তিনি একটি কারখানার মোট আমদানির ২০ শতাংশ পর্যন্ত কাঁচামাল শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন।