জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে অন্য বিশ্বনেতাদের সময় রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। যুক্তরাষ্ট্র সফরের দ্বিতীয় দিনে কর্মব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল নিউইয়র্ক সময় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা) জাতিসংঘ সদরদপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে বিশ্বনেতা ও তাঁদের স্ত্রীদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। এ সময় তারেক রহমান তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠে অ্যান্তেনিও গুতেরেস ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ও আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনে অংশ নেন। পরে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াদ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান অংশ নেন।
অধিবেশনউদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কয়েকটি দেশ ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে রয়েছেন- তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, হাইতির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলজ-এম, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসাইন মোহাম্মদ লাতিফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশপাশি ব্যবসাবাণিজ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গাসংকটসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এ ছাড়া নিউইয়র্ক সময় বিকালে মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এরপর বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গাসংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। বিকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার রাতে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, দেশপ্রেম, আবেগ, অনুভূতি এবং আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে দেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প কী হওয়া উচিত, কীভাবে বাংলাদেশের স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে, সেগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ঐতিহাসিক সফরে নিউইয়র্কে এসেছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষে নিজেদের অবস্থান, ভিশন ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আজকে তাদের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠিক একইভাবে বাবা-মায়ের মতো দেশপ্রেমকে ধারণ করে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকারের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।
মুখপাত্র বলেন, অতীতের ধারা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী এ সফরে এসেছেন। যাতায়াতের দুই দিন বাদে মাঝখানে মাত্র চার কর্মদিবস তিনি নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন এবং বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। পাশাপাশি সনাতনী ধারা সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত এ সফরে ছোট্ট একটি বহর নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। এখানে অত্যাবশ্যকীয় মিডিয়া, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্টাফসহ মাত্র ৩৫ জন রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এসেছেন। সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা কোনো বৈঠকের সুযোগ আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান। তাই আলাদা করে এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার তেমন সুযোগ হবে না।