আট দিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছে বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট। যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ৬২০ মেগাওয়াটের এই দ্বিতীয় ইউনিট পুনরায় উৎপাদন শুরু করেছে। উৎপাদনের ফেরার প্রথম দিনেই এই ইউনিটটি থেকে ৩৬৮ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে আরও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হওয়ার পর এ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। এ দ্বিতীয় ইউনিট চালুর মধ্য দিয়ে এখন ১৩২০ মেগাওয়াটে এই কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটেই বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম এতথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বয়লার অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া ও কারিগরি জটিলতা সারতে ভারত থেকে দুজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী এসে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ করার পর রবিবার দুপুর ১২টার দিকে ৬২০ মেগাওয়াটের এই দ্বিতীয় ইউনিট পুনরায় উৎপাদন শুরু করেছে। প্রথম দিনে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৩৬৮ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। এই ইউনিটটি থেকে পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে আরও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ১৩২০ মেগাওয়াট। তবে স্বাভাবিকভাবে দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু থাকলে ১১০০ থেকে ১২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে, এই কেন্দ্রটি কখনোই ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, আমরা সবসময় চেষ্টা করি রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝেমধ্যে কোনো একটি ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর ত্রুটি তা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এখন কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটেই উৎপাদন চলছে। কেন্দ্রটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ কয়লাও মজুত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি।
রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২০১০ সালে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের এনটিপিসির মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) নামে একটি কোম্পানি গঠিত হয়। এই কোম্পানির অধীনে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী- কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ শেষে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) নামে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর এই কেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যায়। আর এরও এক বছর পরে ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদনে যায় ২য় ইউনিট। আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ।