কেউ চাকরি করছেন ২০ বছর ধরে, আবার কারও চাকরির বয়স ১৫ বছর। দীর্ঘ এই সময়েও স্থায়ী হয়নি তাদের চাকরি। চাকরি স্থায়ীকরণে উচ্চ আদালত ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ থাকলেও রহস্যজনক কারণে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ২৪১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি ঝুলে আছে ‘মাস্টাররোল’র খাতায় বন্দি হয়ে। আদালতের রায়ের পরও স্থায়ী না হওয়ায় তাদের চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্ধকার কাটছে না। বঞ্চিত হচ্ছেন সরকারি সুযোগসুবিধা থেকেও। তবে সিসিকের বর্তমান প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন, চাকরি স্থায়ীর প্রক্রিয়া চলছে। জনবল কাঠামো অর্থমন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হলেই স্থায়ী করা হবে তাদের চাকরি।


সূত্র জানায়, সিসিকের ২৪১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য ২০১৫ সালে উচ্চ আদালতে রিট (রিট মামলা নম্বর ৯১৪৩) করেন সহকারী প্রকৌশলী হাসিবুর রহমান। ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ ওই মামলার রায়ে উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের নির্দেশ দেন। মামলার রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে সিসিকের পক্ষ থেকে লিভ টু আপিল (মামলা নম্বর ১৩০৪) করা হয়। ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি লিভ টু আপিলের রায়ও আসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে। উচ্চ আদালত চাকরি স্থায়ীকরণের পক্ষে রায় বহাল রাখেন। তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য একটি সুপারিশপত্র পাঠান মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু পরবর্তীতে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র হলে সে উদ্যোগে ভাটা পড়ে। আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর চাকরি স্থায়ীকরণের উদ্যোগ থমকে যায়।


সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাহবুবা আইরিন জনবল নিয়োগের ব্যাপারে সিসিকে আসেন। তিনি মামলার রায়প্রাপ্ত জনবল স্থায়ী করার ব্যাপারে তার ইতিবাচক মতামত দেন। কিন্তু সেই সময় সিসিক অভিভাবকহীন এই দোহাই দিয়ে চাকরি স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়াকে দমিয়ে রাখেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


এদিকে, আদালতের রায় ও মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক মতামতের পরও চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় ফের ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে। তারা নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। সিসিক কর্মচারী-শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি ফখরুল ইসলাম জানান, উচ্চ আদালতের রায়ের পরও চাকরি স্থায়ী না হওয়া দুঃখজনক।