সব বিতর্ক পেছনে ফেলে অবশেষে মাঠে গড়াচ্ছে ঘরোয়া ফুটবল। ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে লিগ। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ফেডারেশন কাপ। গতকাল প্রফেশনাল লিগ কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান, বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি ইমরুল হাসান। এ ছাড়া গতকাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফেডারেশন কাপের ড্র। লিগে অংশগ্রহণকারী ১৩টি দল ফেডারেশন কাপে খেলতে সম্মতি জানিয়েছে। এ ১৩ দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল ফেডারেশন কাপের ড্রতে এ গ্রুপে পড়েছে আবাহনী, ফর্টিস এফসি, রহমতগঞ্জ, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ফকিরেরপুল ও চট্টগ্রাম সিটি এফসি। বি গ্রুপে খেলবে বসুন্ধরা কিংস, পুলিশ এফসি, মোহামেডান, পিডব্লিউডি, আরামবাগ, সিটি ক্লাব ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। ড্রয়ের পর বসুন্ধরা কিংসের কোচ বায়েজিদ আলম জুবায়ের নিপু বলেন, ‘আমাদের গ্রুপটা তুলনামূলক কঠিন হয়েছে। তবে টুর্নামেন্টে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হলে সব দলকে হারানোর সক্ষমতা থাকতে হবে। আগে কিংবা পরে সবাইকেই হারাতে হবে।’ অন্যদিকে ফর্টিস এফসির ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এবার তুলনামূলক সহজ গ্রুপে খেলার সুযোগ পেয়েছি। এর আগে বেশির ভাগ সময়ই কঠিন গ্রুপে খেলতে হয়েছে আমাদের।’
ফেডারেশন কাপের ম্যাচগুলো মূলত তিনটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে। ফেডারেশন কাপের আগের আসরগুলো বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনায় আয়োজিত হয়েছে। এবার কেন হবে না? এমন এক প্রশ্নের জবাবে ইমরুল হাসান বলেন, ‘এর আগে এ ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছিলেন সাংবাদিকরাই। এবার বিতর্ক এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ফেডারেশন কাপের নকআউট পর্ব অনুষ্ঠিত হবে এলিমিনেটর ও কোয়ালিফায়ার হিসেবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল খেলবে কোয়ালিফায়ার-১। অন্যদিকে দুই গ্রুপের রানার্সআপ খেলবে এলিমিনেটর। কোয়ালিফায়ার-১-এ বিজয়ী দল সরাসরি খেলবে ফাইনালে। এ ম্যাচের পরাজিত দল এলিমিনেটর ম্যাচের বিজয়ী দলের সঙ্গে কোয়ালিফায়ার-২ খেলবে। সেই ম্যাচে জয়ী দল খেলবে ফাইনাল। এসব বিষয় তুলে ধরেন বাফুফের কমপিটিশন ম্যানেজার জাবেদ আনসারী। গতকাল বাফুফে ভবনে ফেডারেশন কাপের ড্র অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সব দলের প্রতিনিধি থাকলেও মোহামেডান, ফকিরেরপুল ও ওয়ান্ডারার্স কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। মোহামেডানের পরিচালক মোস্তাকুর রহমান মুঠোফোনে বলেছেন, ফেডারেশনের পক্ষ থেকে লিগ ও ফেডারেশন কাপ শুরুর ব্যাপারে চিঠি পাওয়ার পরই তাঁরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগে ঘরোয়া ফুটবল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে মোহামেডানের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি ক্লাব ফেডারেশনকে চিঠি দিয়েছিল। এ ব্যাপারে প্রফেশনাল লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি লিগ ও ফেডারেশন কাপ শুরু করার। সার্বিক বিষয়ে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ ফিফা উইন্ডোতে দুটি রাউন্ডের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে ইমরুল হাসান বলেন, ‘এর আগে ফিফা উইন্ডোতে খেলা বন্ধ থাকত। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হওয়ায় আমাদের খেলা চালিয়ে যেতে হবে।’ পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব ক্লাবই লিগ ও ফেডারেশন কাপে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অংশ নেবে। এবারের মৌসুমে লিগ ও ফেডারেশন কাপই প্রধান টুর্নামেন্ট। এর বাইরে কোনো টুর্নামেন্ট হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমরা স্পন্সর খুঁজছি। যদি পাই সে ক্ষেত্রে আরও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ব্যাপারে চিন্তা করব। স্পন্সর না পেলে লিগ ও ফেডারেশন কাপই অনুষ্ঠিত হবে।’ ফেডারেশন কাপ আয়োজনের সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এ ব্যাপারে ইমরুল হাসান বলেন, ‘বিশে^র সব দেশেই লিগ ও কাপ পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়। ইংল্যান্ডে যেমন লিগ ও এফএ কাপ হয়। আমরাও সেই ধারাতে কয়েক বছর লিগ ও কাপ আয়োজন করছি।’ এবারের ঘরোয়া ফুটবল আয়োজন নিয়ে গত কয়েক মাস বেশ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল ক্লাবগুলো। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু পেছনে ফেলে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ঘরোয়া ফুটবল।