এশিয়ান গেমসে এবারই প্রথম নারী ক্রিকেট থেকে কোনো পদক ছাড়া ফিরছে বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর সেমিফাইনালে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। এরপর ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়েও পাকিস্তানের কাছে হেরে শূন্য হাতেই শেষ হয়েছে তাদের এশিয়াড অভিযান।


পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের হতাশা ছিল স্পষ্ট। ম্যাচ শেষে শারমিন আক্তার ও নাহিদা আক্তার যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, ডাগআউটে তখন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির মুখেও ছিল হতাশার ছাপ। এর কয়েক দিন আগেই টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন জ্যোতি। তাঁর সিদ্ধান্তের প্রভাব দলের পারফরম্যান্সে পড়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


এশিয়ান গেমসের আগে এশিয়া কাপেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। এর আগে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ হার এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় একই ধরনের ব্যর্থতা দেখা গেছে। এশিয়াডে অবশ্য ভারত সোনা, শ্রীলঙ্কা রুপা এবং পাকিস্তান ব্রোঞ্জ জিতেছে।


বাংলাদেশের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় জায়গা ছিল ব্যাটিং। ভারতের বিপক্ষে ১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৮১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এরপর ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে পাকিস্তানের দেওয়া ১৪৬ রানের লক্ষ্যও পার হতে পারেনি তারা। ২০ ওভারে বাংলাদেশ থামে ১১৪ রানে।


দীর্ঘ সময় ধরেই বাংলাদেশের নারী দলের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এবারের এশিয়ান গেমসেও সেটিই বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে। দলের প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরানের মতে, এর পেছনে শুধু টেকনিক বা ফিটনেসের সমস্যা নয়, মানসিক চাপও ভূমিকা রাখতে পারে।


জাপান থেকে ফোনে তিনি বলেন, ‘টেকনিকের ব্যাপার আছে, ফিটনেসের ব্যাপার আছে, মানসিক ব্যাপার আছে। এসব খুঁজে বের করতে হবে এবং কাজ করতে হবে। শুধু টেকনিকের কথা বললে হবে না। এই টেকনিক নিয়ে খেলছে মেয়েরা। দিন দিন পারফরম্যান্স খারাপ হচ্ছে। এটা মানসিক কারণ হতে পারে। মানসিক চাপ আছে। নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় কম, পুরোনো খেলোয়াড়েরাই খেলছে অনেক দিন ধরে।’


ব্যাট হাতে এবারের এশিয়ান গেমসেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি জ্যোতি। ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ১০০ স্ট্রাইকরেটে ৯ রান করার পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩০ বলে করেন ২৫ রান। দলের ব্যর্থতার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে।


তবে জ্যোতিকে এককভাবে দায়ী করার পক্ষে নন প্রধান কোচ। অধিনায়কত্ব ছাড়ার বিষয়টি নিয়েও বাইরে নানা আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক কি একা পারফর্ম করবে? অন্যরা সেভাবে করছে না। অথচ অধিনায়ককে নিয়ে লেখা হচ্ছে শুধু। অধিনায়ক তো আর একা খেলেন না, সবাই খেলে। একজনকে নিয়ে সমালোচনা হলে হয়তো এটা দলের ওপর প্রভাব ফেলবে।’


অন্যদিকে, জ্যোতিকে নেতৃত্ব ছাড়তে চাপ দেওয়া হয়েছিল এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু। তিনি বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না। এটা কে বলবে? কিছু বললে তো আমার বলার কথা। কিংবা বোর্ড সভাপতি বলবে। এটা তো তার (জ্যোতির) একক সিদ্ধান্ত। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে? এটা তো দলের জন্য ভালো হলো না।’


এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদকহীনতার দিনে নারী ক্রিকেটে সোনা জিতেছে ভারত। ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২১৬ রান করে ভারত। জবাবে মাত্র ৬৯ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। ফলে ভারত সোনা, শ্রীলঙ্কা রুপা এবং পাকিস্তান ব্রোঞ্জ নিয়ে দেশে ফিরছে; বাংলাদেশের মেয়েদের ফিরতে হচ্ছে কোনো পদক ছাড়াই।