রমজানজুড়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সাড়ে ৩ হাজার মুসল্লি ইফতার করছেন প্রতিদিন। মুসল্লিরা একসঙ্গে ইফতার ভাগাভাগি করেন এক কাতারে সমবেত হয়ে। চাকরিজীবী, ভবঘুরে, শ্রমিক, দিনমজুরসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এক হয়ে এই ইফতার গ্রহণ করেন। ফলে মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে প্রতিদিন দেখা মেলে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃশ্য। মসজিদ মুসল্লি কমিটি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও তাবলিগ জামাত মিলে করে এ আয়োজন। গতকাল দেখা গেছে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দোতলায় পূর্ব সাহানে (চত্বরে) এবং মসজিদের দক্ষিণ অংশে তিন ভাগে আয়োজন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের ইফতার। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কর্মরত কামাল হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ইসলামী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ২ হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয়। মসজিদের পূর্ব সাহানের উত্তর দিকে ইফতারির আয়োজন করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সব মিলিয়ে এখানে প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার মানুষ ইফতার করে থাকে। দক্ষিণ দিকে ইফতারির আয়োজন করছে বায়তুল মোকাররম মসজিদ মুসল্লি কমিটি এবং মসজিদের দক্ষিণ অংশে ইফতারির আয়োজন করছে বাংলাদেশ মুসল্লি কমিটি। এ ছাড়া সেখানে তাবলিগ জামাতের পক্ষ থেকেও নিয়মিত ইফতারের আয়োজন করা হয়।

ভোলা থেকে পেশাগত কাজে রাজধানীতে এসেছেন আনজুমান ইসলামিয়া মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম আসলামী। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ এবার শান্তিতে রমজান উপভোগ করছে। যেটা গত বছর দেখা যায়নি। দেশে নির্বাচিত সরকার আসায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। মাঝেমধ্যেই আমি বায়তুল মোকাররম মসজিদে নামাজ পড়তে আসি। রমজানে ইফতার করি।’

বায়তুল মোকাররমে এবারই প্রথম ইফতার করছিলেন পরিবহন শ্রমিক ইবাদত আলী। তিনি বলেন, ‘পাঞ্জাবি কিনত আইছি। কম দামে বায়তুল মোকাররম মসজিদের মার্কেটে পাঞ্জাবি পাওন যায়। ইফতারির সময় হয়ে গেছে তাই ইফতার করতে বসছি সবার সঙ্গে।’

আসরের নামাজের পর থেকেই দেখা যায় মুসল্লিরা লাইন ধরে অথবা বড় একটি প্লেট ঘিরে পাঁচ-ছয়জন গোলাকার হয়ে বসে আজানের অপেক্ষা করছেন। প্লেটে সাজানো হচ্ছে বুট-মুড়ি, আলুর চাপ, জিলাপি, খেজুর, কলা ইত্যাদি বাহারি আয়োজন।

এ ছাড়া বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ চত্বরে দেখা গেছে, গণ ইফতারির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ মুসল্লি কমিটি নামের আরেকটি সংগঠন। সংগঠনটির দায়িত্বশীল আবেদ আলী বলেন, এখানে একসঙ্গে এত এত মানুষের ইফতার করতে পারা একটা অন্যরকম আনন্দ। ইফতার শেষে হাজার হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এ সময় এক মানবিক পরিবেশ তৈরি হয়। সারা বছর এই মানবিক পরিবেশ সব খানেই বজায় রাখা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।