মানুষের জ্ঞান সীমিত, দৃষ্টিশক্তি আংশিক, আর উপলব্ধি ক্ষণস্থায়ী। মানুষের জ্ঞান সীমাবদ্ধ। এই সীমাবদ্ধ জ্ঞানের বিপরীতে কোরআন আমাদের সামনে এমন এক সত্তার পরিচয় তুলে ধরে, যাঁর জ্ঞান সর্বব্যাপী, সর্বকালীন ও সর্বপরিবেষ্টনকারী—তিনি আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ জানেন অদৃশ্য ও দৃশ্য, অতীত ও ভবিষ্যৎ, আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিটি কণা, এমনকি মাতৃগর্ভে ভ্রূণের অবস্থাও।


মানুষের জন্মের আগে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে এবং মৃত্যুর পরেও—সব পর্যায়েই আল্লাহর জ্ঞান সক্রিয় ও পরিপূর্ণ।

আল্লাহর জ্ঞানের বিশালতা ও পরিব্যাপ্তি : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহই সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও তদ্রূপ। তাদের মধ্য দিয়ে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা জানতে পারো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান এবং আল্লাহ তাঁর জ্ঞানে সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ১২)


তিনি বলেন, ‘তুমি কি লক্ষ করো না যে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে—সবই আল্লাহ জানেন? তিনজনের এমন কোনো গোপন পরামর্শ নেই যেখানে তিনি চতুর্থ নন; পাঁচজনের কোনো গোপন আলোচনা নেই, যেখানে তিনি ষষ্ঠ নন।


এর চেয়ে কম হোক বা বেশি—তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সঙ্গে রয়েছেন। তারপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা : মুজাদিলা, আয়াত : ৭)


আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সম্পদ থেকে যা কিছু ব্যয় করো কিংবা যেকোনো মানত করো—নিশ্চয়ই আল্লাহ তা ভালোভাবেই জানেন। আর জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত : ২৭০)


আল্লাহ দৃশ্য-অদৃশ্য সব কিছুই জানেন : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক ভালোভাবে জানেন—তারা তাদের অন্তরে যা গোপন রাখে এবং যা তারা প্রকাশ করে।’ (সুরা : নামল, আয়াত : ৭৪)


আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার অন্তর তার কাছে যা কুমন্ত্রণা দেয়, তা আমি জানি। আর আমি তার ঘাড়ের শিরার চেয়েও তার নিকটবর্তী।’ (সুরা : কাফ, আয়াত : ১৬)


তিনি আরো বলেন, ‘তিনিই প্রথম ও শেষ, প্রকাশ্য ও গোপন; আর তিনি সব কিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ৩)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বলো কিংবা প্রকাশ্যে—নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের সব বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ১৩)


তিনি আরো বলেন, ‘তিনি জানেন চোখের সূক্ষ্ম প্রতারণা এবং অন্তর যা গোপন করে।’ (সুরা : গাফির, আয়াত : ১৯)


আল্লাহই একমাত্র গায়েব জানেন : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অদৃশ্যের চাবিকাঠি তাঁর কাছেই আছে; তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৯)


আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘বলুন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে কেউই অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না—আল্লাহ ছাড়া। আর তারা জানেও না কখন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে।’ (সুরা : নামল, আয়াত : ৬৫)


তিনি আরো বলেন, ‘তারা বলে, ‘তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তার কাছে কোনো নিদর্শন কেন অবতীর্ণ হয়নি?’ বলুন, ‘অদৃশ্য তো একান্তভাবেই আল্লাহরই অধিকার।’ অতএব তোমরা অপেক্ষা করো; আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত: ২০)


আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনি অদৃশ্যের পরিপূর্ণ জ্ঞানী; আর তিনি তাঁর অদৃশ্য জ্ঞান কাউকে প্রকাশ করেন না।’ (সুরা : জিন, আয়াত : ২৬)


সৃষ্টিজগতের ক্ষুদ্রতম বিষয়ও জ্ঞানের আওতাভুক্ত : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনি তোমাদের সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন—যখন তিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মায়েদের গর্ভে ভ্রূণ অবস্থায় ছিলে। অতএব তোমরা নিজেদের পবিত্র বলে ঘোষণা করো না; তিনি ভালোভাবেই জানেন কে কতটা তাকওয়াবান।’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৩২)


আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘কিয়ামতের জ্ঞান একমাত্র তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তিত হয়। কোনো ফল তার আবরণ থেকে বের হয় না, কোনো নারী গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসবও করে না, সব কিছু তাঁর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ৪৭)


আল্লাহ তাআলার জ্ঞান সম্পর্কে কোরআনের বর্ণনা আমাদের জানিয়ে দেয় যে মানুষ কখনো একা নয়, অবহেলিত নয় এবং হিসাবের বাইরে নয়। তার প্রতিটি কথা, কাজ, এমনকি নীরব ইচ্ছাও আল্লাহর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।