প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে আগামীকাল ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে কংগ্রেসে দলীয় নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ অবস্থায় তিনি কীভাবে নিজের কর্মসূচিকে এগিয়ে নেবেন সে বিষয়ে এরই মধ্যে নানা বিকল্প নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। 


মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা কংগ্রেসের ৪৩৫টি প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) আসন, সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৩টি আসন এবং রাজ্য গভর্নরসহ স্থানীয় কর্মকর্তাদের নির্বাচিত করবেন। এরই মধ্যে আগাম ভোটও নেওয়া হয়েছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন গবেষণাগার জানিয়েছে, গত অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ ৫১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ তাদের আগাম ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দলের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কি না। ডেমোক্র্যাটরা যদি এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেয় তবে ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন, বাজেট পাস ও নীতি বাস্তবায়নে বড় বাধা তৈরি হতে পারে। এমন আশঙ্কায় কীভাবে নিজেদের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে নানা পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ।


 বিশেষ করে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে অভিবাসন, বাণিজ্য, আবাসন ও সরকারি ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য তদন্ত মোকাবিলার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে জানেন এমন দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গত এপ্রিল থেকে ট্রাম্পের উপপ্রধান কর্মী কর্মকর্তা স্টিফেন মিলার, বাজেট পরিচালক রাসেল ভটসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউজের আইনবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে কাজ করছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই কোন কোন বিষয়ে নির্বাহী আদেশ বা অন্য পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব-তা খতিয়ে দেখছেন তারা। হোয়াইট হাউজের আইনবিষয়ক প্রধান উইল শার্ফ ও তার দলও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। হোয়াইট হাউজের ওই কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প এককভাবে আইনগতভাবে কী করতে পারেন, কোথায় গিয়ে তাঁর ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করতে পারেন এবং আদালতে এসব সিদ্ধান্ত কীভাবে সমর্থন করবেন তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার শর্তে ফল মেনে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে তিনি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন বা জালিয়াতির অভিযোগ আনতে পারেন বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। এ কারণে আগেভাগেই তিনি নির্বাচনি জালিয়াতির তথ্যদাতাদের জন্য ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প যেসব নির্বাচনে নিজে জয়ী হয়েছেন, সেগুলোতেও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট কিংবা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে এবারও তিনি নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলে মনে না করে জালিয়াতির অভিযোগ তুলবেন।