ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেই কঠোর অবস্থান জানিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩৭ মিনিটের ভাষণে তিনি ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনার পাশাপাশি চুক্তি না হলে দেশটিকে ‘ধ্বংস’ করার হুমকি দেন। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহারের কথা জানান।


ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তার সামনে দুটি পথ- তেহরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি করা, যার মাধ্যমে দেশটি আবারও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে পারে, অথবা চুক্তি না হলে ইরানকে দ্রুত ‘ধ্বংস’ করা। তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সম্ভাবনা ঠেকাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান প্রয়োজন হয়েছিল। তবে একই ভাষণে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে একটি সমঝোতার সম্ভাবনাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তাঁর প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি তিনি অন্য দেশগুলোকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দেশটিকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।


এআই নিয়ে নতুন নামের প্রস্তাব


ট্রাম্পের ভাষণে বিশেষ গুরুত্ব পায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে এখন থেকে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এআই নিয়ে নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে যে সতর্কতা আন্তর্জাতিক মহলে রয়েছে, ট্রাম্প তা খারিজ করে দেন। তাঁর দাবি, এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে অনেক এগিয়ে এবং প্রযুক্তিটির বিকাশ বাধাগ্রস্ত করার মতো কোনো নীতি তিনি গ্রহণ করবেন না। তিনি এআইয়ের সম্ভাবনাকে শিল্পবিপ্লবের চেয়েও বড় বলে উল্লেখ করেন।


আইসিসি ছাড়ার আহ্বান


আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি নিয়েও ট্রাম্প সরাসরি অবস্থান জানান। তিনি আদালটিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া’ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করে এর সদস্য দেশগুলোকে আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যদের এমন একটি আদালতের বিচারের মুখোমুখি হতে দেওয়া হবে না, যেটিকে তিনি ‘যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আইসিসির সদস্য দেশগুলোকে অবিলম্বে আদালত থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।


জাতিসংঘের সমালোচনাও


ভাষণে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও ট্রাম্প সমালোচনা করেন। তাঁর প্রশাসনের সময়ে জাতিসংঘে বাজেট ও জনবল কমানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাটির কার্যক্রমে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক করব্যবস্থা ও ‘বিশ্বায়নবাদী’ নীতির সমালোচনা করেন। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং তিনি যুদ্ধের সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা ও কিউবা প্রসঙ্গেও তিনি তাঁর প্রশাসনের কঠোর নীতির পক্ষে বক্তব্য দেন।


ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইরানের প্রতিনিধিদলের বেশির ভাগ সদস্য অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এর কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে সরাসরি যোগাযোগের খবরও সামনে আসে।